দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেরঠের চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল সেখানকারই ছাত্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শনিবার ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল হল উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর। পুলিশ কমিশনারের দফতর ঘেরাও করে রেখেছে কয়েকশো ছাত্র।
ছাত্রদের বক্তব্য, গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় এক ছাত্র। তারপর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই রাস্তার উপর বাইক থেকে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিয়ে যায় মেরঠ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গড়মুকুটেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনও সেখানে ভর্তি।
দলমতনির্বিশেষে শনিবার বিক্ষোভে নামে চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। একদল বিশ্ববিদ্যালয়র মূল গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। আর কয়েকশো ছাত্র চলে আসে বুলন্দশহরের পুলিশ কমিশনারের বাংলোর সামনে। রাস্তায় বসে পড়ে চলছে স্লোগান। ছাত্রদের বক্তব্য, অভিযুক্ত ছাত্রকে তেলেঙ্গানার সাইবারাবাদের ধর্ষকদের মতো এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হোক।
গত ডিসেম্বরে হায়দরাবাদে এক তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল সারা দেশে। তারপর ওই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে যাওয়া চারজনকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলে সাইবারাবাদ পুলিশ। ছাত্রদের দাবি, একই ভাবে এই ঘটনায় অভিযুক্তকেও গুলি করে মেরে দেওয়া হোক। তাঁদের হাতে নেওয়া প্ল্যাকার্ডে লেখা, “উই ওয়ান্ট হায়দরাবাদ পার্ট টু।”
যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেনি। বুলন্দশহরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ খতিয়ে দেখছে। যে ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি তাঁর আঘাত গুরুতর। মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়েই এই আঘাত লেগেছে। মেডিক্যাল রিপোর্টে এখনও ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।”
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০০১৬ থেকে ১৯—এই তিন বছরে মহিলাদের উপর অত্যাচারের পরিমাণ বেড়েছে ২০ শতাংশ। আবার সেই উত্তরপ্রদেশেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।