দ্য ওয়াল ব্যুরো : জমি ছিল। কিন্তু চাষ করার সরঞ্জাম ছিল না। চাষ করার জন্য লোক ভাড়া করার মতো টাকাও ছিল না। আর তাই বুদ্ধি করে নিজেই জমি চষার এক যন্ত্র বানালেন তেলঙ্গনার এক কৃষক। সেই যন্ত্র দিয়ে দিব্যি হলো চাষ। এই পদ্ধতি রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে তেলঙ্গনার এই ছোট্ট গ্রামে।
তেলঙ্গনার নালগোন্দা জেলার চারলা গৌরারাম গ্রামে থাকেন ৩২ বছরের বোল্লাম মুথাইয়া। চার একরের মতো জমি আছে তাঁর। কিন্তু টাকার অভাব থাকায় কাউকে দিয়ে জমি চষাতে পারেননি মুথাইয়া। তাই নিজেই বের করেছেন এই পদ্ধতি। বাড়িতে লাঙল চষার কোনও যন্ত্রও ছিল না মুথাইয়ার। ছিল একখানা ভাঙা সাইকেল। সেই সাইকেলকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
সাইকেলের সামনের চাকাকে খুলে তার সঙ্গে লাগিয়ে দিয়েছেন জমি চষার কাঠের লাঙলের মতো জিনিস। চাকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছে সেই যন্ত্র। এমনভাবে তা করা হয়েছে, যাতে চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে সেই কাঠের লাঙল জমি চষতে চষতে এগিয়ে যায়। তবে এই লাঙল টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও বলদ বা ষাঁড় ছিল না মুথাইয়ার। তাই এখানে সামনে থেকে দড়ি বেঁধে ওই যন্ত্রকে টেনে নিয়ে যান স্ত্রী রেণুকা। আর পিছন থেকে তা ধরে থাকেন মুথাইয়া। এভাবেই নিজেদের চার একর জমি চষে ফেলেছেন তাঁরা।
মুথাইয়ার কথায়, "আমার যে চার একর জমি আছে, তাতে তুলোর চাষ করি। বছরে অন্তর তিনবার জমি চষার দরকার হয়। তিনবার জমি চষতে ৬০০০ টাকা খরচ। কিন্তু অত টাকা আমার কাছে নেই। তাই আমি নিজেই এই যন্ত্র বানিয়েছি। জমি চষতে কারও দরকার নেই আমার।"
মুথাইয়ার এই পদ্ধতি রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে প্রায় ২ হাজার জনসংখ্যার ওই গ্রামে। আশেপাশের গ্রাম থেকেও অনেকে তাঁর কাছে আসছেন এই যন্ত্রের ব্যাপারে শিখতে। জনৈক গ্রামবাসীর বক্তব্য, "এখানে জমি চষার লোকের সংখ্যা কম। তাই টাকা দেওয়ার পরেও অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এ ভাবে যদি নিজেরাই জমি চষে নেওয়া যায়, তাহলে তো তার থেকে ভালো কিছু হতে পারে না।"