দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের পিছোল নির্ভয়া মামলায় দোষীদের ফাঁসি। ২০ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি হচ্ছে না দোষী অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিং, পবন গুপ্ত ও বিনয় শর্মার। শুক্রবার একথা জানিয়ে দিল দিল্লি আদালত।
২০ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসির সাজা কার্যকর করার জন্য দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের কাছে নতুন করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার আবেদন জানিয়েছিল তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই আবেদন এদিন নাকচ করে দেন বিচারপতি। তিনি জানান, "আমি আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। তাই তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের আবেদন আমি নাকচ করছি।" জানানো হয়েছে, এখনও কিছু আইনি আবেদনের জায়গা বাকি রয়েছে নির্ভয়ার দোষীদের। তাই এই ফাঁসির প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আর কী কী আবেদন নির্ভয়ার দোষীরা করতে পারবে, তা কার্যকর করার জন্য এক সপ্তাহ সময় তাদের দেওয়া হচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টেও এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হওয়ার কথা। দিল্লি সরকার আবেদন করেছিল, একসঙ্গে না হলে একে একে চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হোক। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। সেটা সম্ভব কিনা তাই নিয়েই মঙ্গলবার শুনানি রয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
এই নিয়ে তিনবার পিছিয়ে গেল নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসি। এর আগে দিল্লির বিশেষ আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে বলেছিল, ২২ জানুয়ারি ৪ দোষীর ফাঁসি দিতে হবে। এরপর সুপ্রিম কোর্টে রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়েছিল দুই অভিযুক্ত। সেই আর্জি খারিজ হওয়ার পর দিল্লি হাইকোর্টে দিল্লির নিম্ন আদালতের ওই মৃত্যু পরোয়ানার রায় চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে মুকেশ সিং।
এর পরেই নির্ভয়া কাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি পিছিয়ে যায়। ২২ জানুয়ারি ফাঁসি দেওয়া যাবে না বলে রায় দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশে বলা হয় ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ছ’টায় ফাঁসি হবে নির্ভয়া-কাণ্ডের অপরাধীদের। কিন্তু সেদিনও ফাঁসি হয়নি। তারপরে তিহাড় জেলের তরফে আবেদন করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি এই ফাঁসি কার্যকর করতে। তার জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করারও আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেটা খারিজ করে দিল আদালত।
এই পরিস্থিতিতে নির্ভয়া মামলার দোষীদের ফাঁসি কবে হবে, তা নিয়ে ফের সংশয় তৈরি হয়েছে। বারবার এই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই বিরক্ত গোটা দেশ। আইন ব্যবস্থার উপরেও প্রশ্ন উঠছে। এখন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে সবাই। সেদিনই মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে, কবে ফাঁসি হচ্ছে নির্ভয়ার দোষীদের।