দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাঁরা নিয়মিত যোগাভ্যাস করেন, তাঁদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কম হয় বলেই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
রবিবার সকালে গোয়ার পানাজিতে নিজের বাড়িতে যোগাভ্যাস করেন শ্রীপদ নায়েক। তারপর সেখান থেকে লেহ-তে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের সামনে এই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
শ্রীপদ নায়েক জানান, দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণায় এখন অনেকে যোগাভ্যাসের প্রতি উৎসাহিত হচ্ছেন। এই উৎসাহ ভারতে করোনা মোকাবিলা করতে সাহায্য করছে। মন্ত্রী বলেন, “আমি নিশ্চিত দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাভ্যাসের প্রতি যে উৎসাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনেছেন তা দেশের ভাল করছে। এই উৎসাহের ফলে দেশের মানুষের মধ্যে যোগাভ্যাসের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে তা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করছে। কারণ যাঁরা নিয়মিত যোগাভ্যাস করেন, তাঁদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কম।”
এদিন মন্ত্রী বলেন, যোগাভ্যাসের ফলে মানুষের শ্বাসযন্ত্র অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। ফলে কোভিড ১৯ ভাইরাস শ্বাসযন্ত্রে হামলা করলেও বিশেষ কিছু সুবিধা করে উঠতে পারে না। ফলে সংক্রমণ মোকাবিলা করতে অনেক সুবিধা হয়।
মানুষকে বাড়িতে বসে যোগাভ্যাসের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের মধ্যে দারুন উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। অনেকেই আজ বাড়িতে যোগ দিবস পালন করেছেন। আমরা পরামর্শ দিয়েছি, একসঙ্গে যোগাভ্যাস করলেও যেন ২০ জনের বেশি জমায়েত কোথাও না হয়।”
অনেকটা একই কথা এদিন সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, প্রাণায়াম অর্থাৎ শ্বাসের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য যে যোগ রয়েছে তা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোভিড ১৯ আমাদের শ্বাসযন্ত্রে আঘাত করে। প্রথমেই তারা আমাদের শ্বাসযন্ত্র দুর্বল করে দেয়। সেখানেই মানুষ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রাণায়াম আমাদের শ্বাসযন্ত্রকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। প্রাণায়ামের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে।”
নরেন্দ্র মোদী এদিন তাঁর বার্তায় আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগী যোগের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছেন। যোগ শুধুমাত্র মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তাই নয়, যোগের মাধ্যমে মানুষের মনোবল অনেক বেড়ে যায়। ফলে করোনার মতো শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইচ্ছা অনেক প্রবল হয়। মানুষের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়ে। সেইসঙ্গে যোগ মানুষের মনে শান্তি নিয়ে আসে।”