দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার দেশজুড়ে আরও ছ'জন করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এই নিয়ে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫।
সোমবার বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ফিরেছেন তিনি। এছাড়া এদিন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর ও পঞ্জাবে একজন করে করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। আরও বেশি করে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে। রোগীদের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
কেরলে এক ৩ বছরের শিশুর শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। কিছুদিন আগে ওই শিশুটি তার পরিবারের সঙ্গে ইতালি বেড়াতে গিয়েছিল। শনিবার দেশে ফিরে আসার সময় কোচি বিমানবন্দরে তাঁদের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত স্ক্রিনিং হয়, তখনই শিশুটির দেহে ওই ভাইরাসের প্রমাণ মেলে। ফলে ওই ৩ বছরের শিশুটিকে তার পরিবার থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পরে কেরলে আরও বেড়েছে করোনা-আতঙ্ক। কাল, রবিবারই কেরলে একই পরিবারের ৫ জনের শরীরে করোনোভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মেলে। জানা যায়, করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন সম্প্রতি ইতালি থেকে এদেশে ফিরলেও তাঁরা বিমানবন্দরে সেই কথা জানাননি। তাই বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত স্ক্রিনিংও করা হয়নি তাঁদের। তাঁরাই বয়ে নিয়ে এসেছেন এই মারণভাইরাস।
কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এই ধরনের বিমানযাত্রার ইতিহাস বা করোনার উপসর্গ যদি কেউ গোপন করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
করোনা-পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেলে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে সমস্ত রাজ্যের চিকিৎসক প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির হয়েছে দিল্লিতে। বাংলা থেকে ওই শিবিরে যোগ দেন এসএসকেএম, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নোডাল অফিসাররা। রাজ্যে ফিরে তাঁরা আবার প্রশিক্ষণ দেবেন অন্য চিকিৎসকদের। রাজ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হবেন না। সতর্ক হোন।
গত বছর ডিসেম্বরে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ সারা বিশ্বের ৯০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে মোট চার হাজার। আক্রান্ত এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। হু-এর আশঙ্কা, চিনের বাইরে আরও অনেক দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণভাইরাস।