
শেষ আপডেট: 21 February 2020 08:47
মধ্যপ্রদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ঘোষণার জন্য কমলনাথ সরকার জাতীয় পরিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষাকে হাতিয়ার করেছে। যাতে বলা হয়েছে, মাত্র ০.৫ শতাংশ পুরুষ নির্বীজকরণ করছেন মধ্যপ্রদেশে। সেই কারণেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মিশনের তরফে সমস্ত জেলা স্তরের অফিসার এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়েছে, যে পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মীরা ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে অন্ততপক্ষে একজনকেও নির্বীজকরণের জন্য রাজি করাতে পারেননি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের জন্য ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ ব্যবস্থা চালু করুক জেলা প্রশাসন।
শুধু তা নয়, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের আগামী আর্থিক বছরের জন্য লক্ষ্য মাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে জেলায় যখন ক্যাম্প হবে তখন প্রতিটি পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মীকে অন্তত পাঁচ থেকে দশ জন পুরুষকে বুঝিয়ে রাজি করতে হবে।
মধ্যপ্রদেশে পুরুষদের নির্বীজকরণের হার গত পাঁচ বছরে দৃশ্যতই কমেছে। ২০১৯-২০ বছরে মাত্র ৩৩৯৭ জন নসবন্দি করিয়েছেন। তুলনায় বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য মহিলারা অনেক বেশি সংখ্যায় এগিয়ে এসেছেন। চলতি আর্থিক বছরে মধ্যপ্রদেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মহিলা বন্ধ্যাত্বকরণ করেছেন।
জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৫-১৬ বছরে মধ্যপ্রদেশে ৯৯৫৭ জন ভ্যাসেকটমি করিয়েছিলেন। কিন্তু পরের তিন বছরে সেই সংখ্যা ক্রমশ কমে হয়েছে যথাক্রমে ৭২৭০, ৩৭১৯ এবং ২৯২৫। রাজ্যের স্বাস্থ্য মিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রজ্ঞা তিওয়ারি বলেছেন, “জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষদের কোনও আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা এগিয়ে আসছেন না। তবে সরকার কিন্তু কাউকে বাধ্য করছে না। সবাইকে বুঝিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র।”
তবে মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন যে, নির্বীজকরণের জন্য রাজ্য সরকার বাধ্য করতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, সত্তরের দশকে ইন্দিরা জমানার সেই কর্মসূচি আদতে কতটা ফল দিয়েছিল তা পরের কথা। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে কংগ্রেসের খুব একটা ভাল হয়নি। বরং হাত পুড়েছিল। উত্তরপ্রদেশের ভোটের ময়দানে স্লোগান উঠেছিল, ‘নসবন্দি কে তিন দালাল/ ইন্দিরা-সঞ্জয়-বংশীলাল’। তবে এটা ঠিক, এখন জমানা বদলছে। মানুষের সচেতনতাও বেড়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা এবং ছোট পরিবারের মাহাত্ম্যও বুঝতে শিখেছেন অনেকেই।