এনপিআর আতঙ্ক ব্যাঙ্কে, নিমেষে ৬ কোটি টাকা তুলে নিলেন গ্রাহকরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাঙ্কের তরফে নোটিস জারি করে বলা হয়েছিল, এনপিআরের তথ্য যোগ হতে পারে গ্রাহকদের কেওয়াইসির সঙ্গে। একথা জানতে পারার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রাহকদের মধ্যে। নিমেষের মধ্যে ওই ব্যাঙ্ক থেকে ৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা।
ঘটনাটি
শেষ আপডেট: 24 January 2020 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাঙ্কের তরফে নোটিস জারি করে বলা হয়েছিল, এনপিআরের তথ্য যোগ হতে পারে গ্রাহকদের কেওয়াইসির সঙ্গে। একথা জানতে পারার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রাহকদের মধ্যে। নিমেষের মধ্যে ওই ব্যাঙ্ক থেকে ৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা।
ঘটনাটি তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কয়ালপাট্টিনাম শাখার। গত ১১ জানুয়ারি একটি নোটিস জারি করে এই ঘোষণা করে ওই ব্রাঞ্চ। তারপরেই আতঙ্ক দেখা যায় গ্রাহকদের মধ্যে। এই শাখা যে এলাকায় রয়েছে সেটি মুসলিম অধ্যুষিত। এক সপ্তাহের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, তারপরেই দেখা যায় ব্যাঙ্কের সামনে বিশাল লাইন পড়ে গিয়েছে। সবাই নিজের নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উপস্থিত জনতার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়, তাঁরা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করেছেন বলে সরকারের তরফে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। শাবানা নামের এক তরুণী জানিয়েছেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ফল আমাদের ভুগতে হবে। আমাদের টাকা সুরক্ষিত নয়। আমার স্বামী দুবাইয়ে চাকরি করে আমাকে টাকা পাঠান। তাই আমি টাকা তুলে নিয়েছি।”

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ওই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার এ মারিয়াপ্পান জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই ৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। সোমবার সবথেকে বেশি টাকা তোলা হয়েছে। যাঁরা টাকা তুলতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। অন্য সময় তাঁদের খুব একটা ব্যাঙ্কে আসতে দেখা যায় না।”
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারও ৫০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে এই ব্যাঙ্ক থেকে। তুতিকোরিনের এই কয়ালপাট্টিনাম সমুদ্রের ধারের একটা শহর। এই শহরে প্রায় ১০ হাজার বাড়ি রয়েছে। বেশিরভাগ লোকই মুসলিম। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে কাজ করেন। ফলে ব্যাঙ্কে তাঁদের এনআরআই অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের মধ্যে এই আতঙ্ক দেখে ওই ব্রাঞ্চের তরফে অটোরিক্সাতে করে প্রচার করা শুরু হয়। কিন্তু কয়েকজনকেই বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।
গ্রাহকদের এই টাকা তোলা দেখে অবাক ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও। ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রথমে ব্যাঙ্কের বাইরে এত বিপুল সংখ্যক লোক দেখে আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পরে আমরা বুঝতে পারি, তাঁরা টাকা তুলতে এসেছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার ছিল না।” পরিস্থিতি এমন হয়েছিল, ভিড় সামলাতে পুলিশকে খবর দিতে হয়। পাশের ব্যাঙ্কের কাছ থেকে সাহায্যও নিতে হয় ওই ব্রাঞ্চকে।