দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় সবাইকে বাড়ির মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্য ফেরার চেষ্টা করছেন। আর এই কারণেই বিহারে লকডাউন ব্যর্থ হয়েছে বলেই জানালেন সেখানকার সেচমন্ত্রী সঞ্জয় ঝা। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে দায়ী করেছেন।
করোনা মোকাবিলায় বিহারের তরফে যে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে সেই গ্রুপের সদস্য হলেন সঞ্জয় ঝা। তিনি বলেন, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার ও উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এই পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আর তারফলেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল এই শ্রমিকদের সীমান্তের কাছে বিভিন্ন ক্যাম্পের মধ্যে রাখার। কিন্তু ক্যাম্পগুলিতে মানুষরা হিংস্র হয়ে উঠছেন। তাঁরা আত্মহত্যা করার হুমকি দিচ্ছেন। তাঁরা আমাদের বলছেন, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকার যখন আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, তখন আপনারা আমাদের গ্রামে ঢুকতে আটকাচ্ছেন কেন।”
এই ব্যাপারে সঞ্জয় ঝা আরও বলেন, “আমি কাউকে দায়ী করতে চাই না। কিন্তু বলতে চাই, যখন আপনি শ্রমিকদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করছেন, তাঁদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা পাঠাচ্ছেন, তখন আপনারা প্রধানমন্ত্রীর লকডাউনের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করছেন। দিল্লির আনন্দবিহার থেকে উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার শ্রমিককে বিহারের সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তার ফলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করার পরেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পায়ে হেঁটেই বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করছেন শ্রমিকরা। পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটছেন তাঁরা। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের গণ্ডগোলও হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকার সেই শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানোর জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে। আনন্দবিহারেই এই ছবি দেখা গিয়েছে। এই কাজেরই নিন্দা করেছেন বিহারের মন্ত্রী।
সঞ্জয় ঝা বলেন, “আমাদের মুখমন্ত্রী নীতীশ কুমার করোনা মোকাবিলায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু যেভাবে অন্য রাজ্যের সাহায্যে কাতারে কাতারে লোক বিহারে ঢুকছে তাতে আমাদের পরিস্থিতি সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আর তাতে আসলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা আরও বাড়ছে। যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁরা ইচ্ছে করে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছেন।”