দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়ানোর সময় ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে যৌন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন এক বিচারক। ধোপার উপর শারীরিক নির্যাতন করারও অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আর তাই সেই বিচারককে অবসর নেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারকের নাম অবশ্য জানায়নি সুপ্রিম কোর্ট। তবে একথা জানা গিয়েছে, তিনি ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার একটি আদালতের বিচারক ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও ও বিচারপতি দীপক গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান। পড়ানোর সময় বিচারকের বিরুদ্ধে যৌন বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ এক বছরের পুরনো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একজন বিচারপতি এক বছর আগেই কোনও মন্তব্য করুন, বা ১০ বছর আগে, প্রতিটা মন্তব্যের দায় তাঁকেই নিতে হবে।
ঠিক কী হয়েছিল এক বছর আগে।
জানা গিয়েছে, সেই সময় রাঁচির অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ডেপুটি ডিরেক্টরের পদে ছিলেন ওই বিচারক। সেই সময় ক্লাস নেওয়ার সময় মাঝেমধ্যেই নাকি যৌন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন তিনি। এমনটাই অভিযোগ করেছেন সেইসময় ট্রেনিংরত বেশ কিছু মহিলা ট্রেনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নিজেদের রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এছাড়াও ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর ধোপা ঠিকমতো কাপড় কাচেনি বলে ওই ধোপার মাথার উপরে গরম লোহার ইস্ত্রি বসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
নিজেদের শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “ওই বিচারকের বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রথমটাই তিনি যখন রাঁচির অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইউনিটে ডেপুটি ডিরেক্টরের কাজ করতেন, তখনকার। সেই সময় নাকি পড়ানোর সময় মাঝেমধ্যেই যৌন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন তিনি। বেশ কিছু মহিলা ট্রেনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও এক ধোপা কাজে ভুল করায় তার মাথায় নাকি গরম ইস্ত্রি বসিয়ে দিয়েছিলেন ওই বিচারক।”
সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, একজন বিচারকের কাছে এই ধরনের মন্তব্য কোনওমতেই আশা করা যায় না। তাই তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি পেতেই হবে। ওই বিচারককে অবসর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবসরের পরেও অন্য বিচারকরা যেমন কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তেমনটা তিনি পাবেন না বলেই জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
এই নির্দেশের পরে অবশ্য অভিযুক্ত বিচারক বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা এক বছর আগের। তাঁর এই বক্তব্যকে খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে মন্তব্য ও কাজ তিনি করেছেন, তার ফল তাঁকেই ভুগতে হবে। সেটা যে সময়েই তিনি করে থাকুন না কেন।