দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মাস আগে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে বিহারে। ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন জনতা দল ইউনাইটেড প্রধান নীতীশ কুমার। যদিও আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও বিজেপির পরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নীতীশের দল। আর এই কারণে পরোক্ষে বিজেপিকেই দায়ী করলেন নীতীশ। তাঁর দাবি, আসন বন্টনে দেরি হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁর দলকে।
জেডিইউ-র স্টেট কাউন্সিল মিটিংয়ে নীতীশ কুমার বলেন, “নির্বাচনের অন্তত পাঁচ মাস আগে এনডিএ-র মধ্যে আসন বন্টন হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। তার ফলে জেডিইউকে এক বড় মূল্য চোকাতে হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইনি। কিন্তু বিজেপি ও আমার দলের চাপে আমি এই পদ নিতে রাজি হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে আমরা মানুষের কাছে ভোট চেয়েছি তাঁরা ভোট দিয়েছেন। এই নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমার ও আমার দলের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল।”
নীতীশ কুমার স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাঁর দল বুঝতে পারেনি কারা তাঁদের বন্ধু ও কারা শত্রু। তিনি বলেন, “আমরা বুঝতে পারিনি কারা আমাদের বন্ধু ও কারা নয়, কাদের উপর ভরসা করা উচিত। নির্বাচনী প্রচারের পরে আমরা বুঝতে পেরেছি আসল ছবিটা কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”
এনডিএ শরিক হয়েও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি-র বিরোধিতা করেছেন নীতীশ কুমার। তিনি বলেন, বিহারের এনআরসি লাগু হতে দেবেন না তিনি। নীতীশ বলেন, “বিহারে এনআরসি লাগু হবে না। যদি কেউ সেটা করার চেষ্টা করে তাহলে আমাদের দল প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করবে।” এই নিয়ে জোটসঙ্গী বিজেপির সঙ্গেই তাদের বিরোধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিহারের নির্বাচনে ৭৪টি আসন পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে নীতীশের জেডিইউ পেয়েছে ৪৩টি আসন। তাই নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁর দলের উপরে চাপ রয়েছে বিজেপির। ১৪ সদস্যের মন্ত্রিসভার সিংহভাগ তাদেরই রয়েছে। এই অবস্থায় নীতীশের এই পরোক্ষে আক্রমণের কোনও প্রভাব জোটের অভ্যন্তরে পড়বে কিনা তার উত্তর অবশ্য সময় দেবে।