বিজেপি-র হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ভোটে লড়ব কংগ্রেসের সঙ্গে: দেবগৌড়া
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভা ভোট আর ছ’মাসও বাকি নেই। ওয়ার্ম-আপ শুরু করে দিয়েছে সব দলই। এরই মধ্যে শনিবার বেঙ্গালুরুতে একটি অনুষ্ঠানে জেডিএস (জনতা দল সেকুলার) প্রধান তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসের সঙ
শেষ আপডেট: 20 October 2018 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভা ভোট আর ছ’মাসও বাকি নেই। ওয়ার্ম-আপ শুরু করে দিয়েছে সব দলই। এরই মধ্যে শনিবার বেঙ্গালুরুতে একটি অনুষ্ঠানে জেডিএস (জনতা দল সেকুলার) প্রধান তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই ভোটে লড়বে তাঁর দল।
শনিবারের অনুষ্ঠানে দেবগৌড়া বলেন, “সাম্প্রদায়িক বিজেপি-র বিরুদ্ধে আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে লড়াই করব। আমরা আমাদের সব নেতাদের অনুরোধ করছি দেশের কল্যাণের জন্য এক হয়ে লড়তে।”
প্রসঙ্গত, বছর ২২ আগে এরকমই এক বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে অ-কংগ্রেসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন দেবগৌড়া। সিপিএমের পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটি জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আপত্তি জানানোয় প্রধানমন্ত্রী হন দক্ষিণ ভারতের এই নেতা।
গত মে মাসে কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনে জোট ছিল না জেডিএস এবং কংগ্রেসের। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর দিল্লি থেকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ফোন গিয়েছিল জেডিএস প্রধান দেবগৌড়ার কাছে। সনিয়া-পুত্র পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছিলেন দেবগৌড়া-পুত্র কুমারস্বামীকে নিঃশর্ত সমর্থন করবে কংগ্রেস। কংগ্রেস এবং জেডিএস মিলিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতলেও প্রাথমিকভাবে একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপি-কেই সরকার গড়তে ডেকেছিলেন কর্নাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথও নিয়ে নেন ইয়েদুরাপ্পা। কিন্তু আড়াই দিন। বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগেই ইস্তফা দিয়ে দিতে হয় তাঁকে। অনেকের মতে, এই আড়াই দিনে বিজেপি অনেক চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস এবং জেডিএস বিধায়কদের ভাঙানোর। কিন্তু সফল হয়নি ‘অপারেশন কমলা।’ এর পিছনেও রাহুল গান্ধীর অদৃশ্য হাত ছিল বলেই মনে করেন অনেকে।
কেন?
কর্নাটক বিধানসভার ফল প্রকাশের দিন দুপুর বেলাই রাহুল গান্ধী বেঙ্গালুরুতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দুই অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি আহমেদ প্যাটেল এবং অশোক গহলতকে। তাঁরাই সেখানে গিয়ে কংগ্রেস বিধায়কদের এক জায়গায় করে রেখে দিয়েছিলেন। যাতে বিজেপি হাইজ্যাক না করতে পারে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল গুজরাট থেকে আহমেদ প্যাটেলকে রাজ্যসভায় পাঠানোর নির্বাচনে। সে বারও গুজরাটের দলীয় বিধায়কদের টানা কয়েকদিন বেঙ্গালুরুর একটি রিসর্টে এনে রেখেছিলেন আহমেদ প্যাটেলরা।
[caption id="attachment_44022" align="aligncenter" width="1280"]
কর্নাটক সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে [/caption]
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের ফ্রেম তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সনিয়া, রাহুল, মায়াবতী, মমতা, সীতারাম ইয়েচুরি কে ছিলেন না সেখানে! কিন্তু সেই ফ্রেম খানিকটা ধাক্কা খায় কয়েকদিন আগে। যখন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মায়াবতী জানিয়ে দেন, তাঁর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং রাজস্থানের ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবে না। কিন্তু এ দিনের দেবগৌড়ার মন্তব্যের পর সেই বিরোধী শিবিরের ঐক্যই ফুটে উঠল বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের অনেকে।