দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকা, হাড়হিম ঠান্ডা, শত্রুসেনার আস্ফালন—কোনও কিছুই দমাতে পারেনি লাদাখে সীমান্ত আগলে থাকা আইটিবিপি জওয়ানদের। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে বরফে মোড়া পাহাড়ি উপত্যকাতেই প্যারেড করলেন জওয়ানরা। তেরঙ্গা উড়িয়ে স্লোগান দিলেন, ‘ভারত মাতা কি জয়!’
১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় পারদ নেমেছে মাইনাস ২৫ ডিগ্রিতে। পাহাড়ি খাঁজ এখন আরও দুর্গম। বরফ পড়ছে। তার মাঝেই চিনের সেনাদের তৎপরতা বেড়েছে। সিকিম সীমান্তে গতকালই ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে একপ্রস্থ হাতাহাতি হয়েছে লাল ফৌজের। এদিকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারেও সক্রিয় চিনের সেনা। তাই প্রচন্ড ঠান্ডাতেও দিনরাত সীমান্ত আগলে বসে আছেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী জওয়ানরা।
https://twitter.com/ITBP_official/status/1353905883718111232
এদিন আইটিবিপি-র অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে যে পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় বরফে ঢাকা উপত্যকায় জাতীয় পতাকা উড়িয়ে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছেন আইটিবিপি-র জওয়ানরা। পুরুষের সঙ্গে মহিলা পুলিশ কর্মীরাও রয়েছেন।
ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ছড়িয়ে রয়েছে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত। লাদাখের কারাকোরাম থেকে অরুণাচল প্রদেশের জাচেপ লা পর্যন্ত। এই গোটা এলাকায় নজরদারি চালায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। জুন মাসে গালওয়ানে চিনা সেনার অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখে দিয়েছিল আইটিবিপির জওয়ানরা। এর পরেও লাগাতার চুক্তি ভেঙে লাল সেনার অনুপ্রবেশের চেষ্টা আটকে দেয় আইটিবিপির জওয়ানরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠায় কেন্দ্র। গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভারতের পার্বত্য বাহিনী তথা স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স মোতায়েন করা হয় পাহাড়ি এলাকাগুলিতে।
আইটিবিপি সূত্র জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন সীমান্তে ভারতীয় সেনার সংখ্যা ৯০ হাজার। আইটিবিপির ফোর্স মিলিয়ে মোট সংখ্যা লাখ পেরিয়েছে।
লাদাখ সীমান্তের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা হল সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। পাহাড়ি খাঁজের বিপদসঙ্কুল পরিবেশে শত্রুসেনার মোকাবিলা করার জন্য দিনরাত জাগছেন ভারতীয় জওয়ানরা। সেই সঙ্গেই হাড়হিম ঠাণ্ডায় পাহাড়ি এলাকা হয়ে উঠেছে আরও দুর্গম। লাদাখে শীত পড়লেই তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড নিচে। এই হাড়হিম ঠান্ডায় শত্রুসেনার গতিবিধির ওপর দিবারাত্র নজর রেখে বসে থাকতে হয়। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, পাহাড়ি ঢালগুলিতে এখন পাহারায় আছে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। উপত্যকা ও সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে নজরদারির জন্য ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে।