নজির গড়ল ইসরো, মাধ্যাকর্ষণ কাটিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল বিশ্বের সবথেকে হালকা স্যাটেলাইট
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে তখন টানটান উত্তেজনা। মহাকাশ গবেষণায় নতুন নজির গড়া থেকে আর কয়েক কদম দূরে ভারত। কালামস্যাট ভি২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে পিএসএলভি রকেটের উৎক্ষেপণের সঙ্গেই শুরু হলো উ
শেষ আপডেট: 25 January 2019 02:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে তখন টানটান উত্তেজনা। মহাকাশ গবেষণায় নতুন নজির গড়া থেকে আর কয়েক কদম দূরে ভারত। কালামস্যাট ভি২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে পিএসএলভি রকেটের উৎক্ষেপণের সঙ্গেই শুরু হলো উল্লাস। বিশ্বের সবথেকে হালকা স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে এক অনন্য নজির গড়ল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো এই স্যাটেলাইট বানাতে এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি ইসরোকে। কারণ স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে ছাত্ররা-ছাত্রীরা। চেন্নাইয়ের ‘স্পেস কিডজ ইন্ডিয়া’ নামের এক বেসরকারি সংস্থার ছাত্র-ছাত্রীরা বানিয়েছে এই স্যাটেলাইট। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, এই সংস্থার ছাত্র-ছাত্রীরা ছ’বছর ধরে বানিয়েছে এই স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটটির ওজন ১.২৬ কেজি। ২০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের এই দলের লিডার ছিলেন ৪৫ বছরের শ্রীমাথি কেসান। এই স্যাটেলাইট বানাতে খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
এই স্যাটেলাইটটির নাম দেওয়া হচ্ছে কালামস্যাট- ভি২ ( ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও মিসাইলম্যান ডক্টর আবদুল কালামের নামে ) । ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবারের এই উৎক্ষেপণ মহাকাশ গবেষণায় এক মাইলস্টোন। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে আরও হালকা একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। ৬৪ গ্রাম ওজনের এই স্যাটেলাইটের নাম দেওয়া হয়েছিল কালামস্যাট ‘গুলাবজামুন’। স্যাটেলাইটের আকৃতির জন্য এই নাম দেওয়া হয়েছিল। নাসা থেকে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হলেও তা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে নিজের কক্ষপথে যেতে পারেনি।
[caption id="attachment_73991" align="aligncenter" width="443"]
কালামস্যাট ভি২[/caption]
ইসরোর তরফে জানানো হয়েছিল, পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল বা পিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। এই স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ হলো নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে খেয়াল রাখা ও ছবি তুলে পাঠানো।
৪৪.৪ মিটার লম্বা এই পিএসএলভি রকেটের ওজন ২৬০ টন। এ দিনের উৎক্ষেপণ এই রকেটের ৪৬ তম উৎক্ষেপণ হলো। এর আগে ২৯ নভেম্বর ইসরোর তরফে পিএসএলভি সি৪৩ রকেটের মাধ্যমে একটি আর্থ-অবজারভেশন স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। তারপরে ফের বৃহস্পতিবার রাতে উৎক্ষেপণ হলো এই স্যাটেলাইটের।
এই উৎক্ষেপণের পরেই ইসরোর তরফে জানান হয়েছে, ভারতের মহাকাশ গবেষণা এখন কতটা উন্নত, তা এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে। এই উৎক্ষেপণ গোটা দুনিয়ার কাছে এক নজির হয়ে থাকবে। সামনের দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে ইসরোর। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গগনযান ও চন্দ্রযান।