‘জুম’ অ্যাপের ডাউনলোড এপ্রিলেই সর্বাধিক, সতর্কতার পরেও শীর্ষে ভারত
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল, সুরক্ষার কারণে অনলাইন ভিডিও কলিং অ্যাপ ‘জুম’-এর ব্যবহার কমাতে। কিন্তু ব্যবহার তো কমেইনি উলটে এপ্রিল মাসে এই অ্যাপ ডাউনলোডকারীদের তালিকায় শীর্ষে ভারত। অ্যাপ ইন্টেলিজেন্স ফার্ম 'সেন্সর টাওয়ার'
শেষ আপডেট: 9 May 2020 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল, সুরক্ষার কারণে অনলাইন ভিডিও কলিং অ্যাপ ‘জুম’-এর ব্যবহার কমাতে। কিন্তু ব্যবহার তো কমেইনি উলটে এপ্রিল মাসে এই অ্যাপ ডাউনলোডকারীদের তালিকায় শীর্ষে ভারত। অ্যাপ ইন্টেলিজেন্স ফার্ম 'সেন্সর টাওয়ার' এই পরিসংখ্যান দিয়েছে।
জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে বিশ্বজুড়ে ১৩ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। অনলাইন অ্যাপের মধ্যে জুম ডাউনলোড করার সংখ্যা সবথেকে বেশি। এই ডাউনলোডের মধ্যে ১৮.২ শতাংশ করা হয়েছে ভারতে। অর্থাৎ এক মাসে ভারতে ৭২ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। ভারতের পরেই রয়েছে আমেরিকা। জুম ছাড়া এই সময়ের মধ্যে টিকটকের ডাউনলোডও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে ১০ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ টিকটক ডাউনলোড করেছেন বিশ্বজুড়ে। সেখানেও সবথেকে বেশি ডাউনলোড হয়েছে ভারতে। এই দেশে প্রায় ৪৯ লক্ষ ব্যবহারকারী টিকটক ডাউনলোড করেছেন এক মাসে।
করোনাভাইরাসের জেরে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই লকডাউন চলছে। ফলে ঘরেই আটকে থাকছেন সবাই। তার ফলেই বাড়ছে এই ধরনের অ্যাপের ব্যবহার। শুধুমাত্র বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করা নয়, অফিসের মিটিং ও পরিবার-বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও অনলাইনে কথা বলা যায় বলেই এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এছাড়া বাড়িতে বসেই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এই অ্যাপ ব্যবহার করে পড়ানো হচ্ছে। প্রাইভেট টিউশনের ক্ষেত্রেও কাজে লাগছে এই অ্যাপ।
তবে জুম অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, এই অ্যাপে অনেক সমস্যা রয়েছে। প্রধান সমস্যা হল সুরক্ষার। অনেক সময়ে কোনও আলোচনার মধ্যে অচেনা কেউ ঢুকে পড়ছেন। ফলে সমস্যা হচ্ছে ব্যবহারকারীদের। এই ঘটনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুমবম্বিং’। এই সমস্যার ফলেই গত মাসে ভারত সরকারের তরফে সব আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে কাজের জন্য জুম অ্যাপের ব্যবহার না করতে। জনতার উদ্দেশেও সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র।
একই রকমের সতর্কতার কথা জানিয়েছে ভারতের জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি 'কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম অফ ইন্ডিয়া'। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্করা যেন এই অ্যাপের ব্যবহার না করে। সেইসঙ্গে যাঁরা ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্যও একাধিক গাইডলাইন দিয়েছে এই সংস্থা। এই গাইডলাইন ব্যবহার করে নিজেদের কথাবার্তা সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের পরে অবশ্য জুম কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে এই অ্যাপের ব্যবহার আরও সুরক্ষিত করার কাজ শুরু করছে তারা। এমনকি এই সপ্তাহে জুম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাতে হোয়াটসঅ্যাপের মতো কথাবার্তা ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তার জন্য একটা এনক্রিপশন যোগ করতে চলেছে তারা।