৪০০ বছরের পুরনো বট গাছ বাঁচাতে তীব্র আন্দোলন, বদল হল হাইওয়ের পরিকল্পনা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা গাছ। চার শতাব্দীর ইতিহাস, আবেগ। হাইওয়ে নির্মাণে সেই গাছ কাটা পড়বে জেনেই শুরু হয়েছিল আন্দোলন। গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকে তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছিল বৃহত্তর জায়গায়। প্রায় সারা দেশের পরিবেশ কর্মীরা জোট বেঁধে ফেলেছেন ওই ৪০০ বছরের প
শেষ আপডেট: 25 July 2020 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা গাছ। চার শতাব্দীর ইতিহাস, আবেগ। হাইওয়ে নির্মাণে সেই গাছ কাটা পড়বে জেনেই শুরু হয়েছিল আন্দোলন। গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকে তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছিল বৃহত্তর জায়গায়। প্রায় সারা দেশের পরিবেশ কর্মীরা জোট বেঁধে ফেলেছেন ওই ৪০০ বছরের প্রকাণ্ড বটবৃক্ষটিকে বাঁচাতে। অবশেষে আন্দোলনের জয় হল। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে জানিয়ে দিলেন, সাংলি জেলায় ওই বট গাছটি কাটা পড়ছে না। বরং তা বাঁচিয়ে রাখতে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে হাইওয়ে।
রত্নগিরি-সোলাপুর জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছিল আগেই। মহারাষ্ট্রে তখন দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার। উদ্ধব ঠাকরে সরকার আসার পর সেই কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস আগেই জানা যায়, হাইওয়ে নির্মাণের জন্য ওই গাছটিকে কেটে ফেলা হবে। তারপরই শুরু হয় আন্দোলন।
গ্রামবাসীরা প্রথমে জানান স্থানীয় প্রশাসনকে। কিন্তু তাতে বিশেষ সাড়া মেলেনি। এর পর ওই এলাকারই কিছু কলেজ ছাত্র বিষয়টিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে আনেন। দৃষ্টি আকর্ষণ করা পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানীদের সঙ্গে। এরপর শুরু হয় ডিজিটাল সই সংগ্রহ। এর মধ্যেই প্রায় তিন লক্ষ মানুষ গাছ কাটার বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন।

লকডাউনের মধ্যেই এক দিন সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে ওই এলাকায় বিক্ষোভ পদর্শন করেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মীরা। স্পষ্ট বলা হয়, ওই গাছ কাটা পড়লে অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে হাইওয়ে করতে হবে।
পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে দেখে মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে আদিত্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি দেখার জন্য। গত মাসেই আদিত্য টুইট করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেন্দ্রীয় সরকার এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি এও বলেন, স্থানীয় মানুষের সেন্টিমেন্টের কথা দিল্লিকে জানানো হয়েছে।
এদিন আদিত্য টুইট করে জানিয়েছেন, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি জানিয়েছে, তারা পরিকল্পনা বদল করে হাইওয়ের রাস্তা বদল করেছে। ওই বট গাছে প্রায় ৩৫০ মিটার দূর দিয়ে যাবে রাস্তা। যাতে যন্ত্র ব্যবহারের ফলে গাছটির কোনও ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারেও ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি যত্ন নিয়ে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, এটা তাঁদের নাছোড়বান্দা মনোভাবের জয়। তাঁরা জানিয়েছেন, “আমরা হাইওয়ে নির্মাণের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু তাতে যেন পরিবেশ রক্ষার ন্যূনতম শর্তগুলি মানা হয়।” কয়েক বছর আগেই বুলেট ট্রেনের লাইন পাতার জন্য কয়েক লক্ষ গাছ কাটা পড়েছিল মহারাষ্ট্রে। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার একটা গাছের জন্য আন্দোলনের চাপে সিদ্ধান্ত বদলাতে কার্যত বাধ্য হল মহারাষ্ট্র সরকার।