দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কেন্দ্রও। নেওয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। আর এই নতুন পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে দিল্লির প্রতিটি বাড়ি স্ক্রিনিং করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজধানীতে সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। মঙ্গলবার নতুন করে ৩৯৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের নিরিখে তামিলনাড়ুকে ছাপিয়ে গিয়েছে দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়াল সরকার জানিয়েছে, দিল্লির কন্টেইনমেন্ট জোনে থাকা প্রতিটি বাড়ি আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্ক্রিনিং করে দেখা হবে। প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দাদের উপসর্গ রয়েছে কিনা তা দেখা হবে। সন্দেহ হলেই নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া কোনও আক্রান্তের উৎস খোঁজার কাজ আরও নিখুঁতভাবে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোন নয়, দিল্লির প্রতিটি বাড়িতেই এবার স্ক্রিনিং করে দেখা হবে। ৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা করা হবে। যাতে কোনও বাসিন্দা স্ক্রিনিং থেকে বাদ না পড়েন, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন পর্যবেক্ষকরা। দিল্লিতে এই মুহূর্তে ২৬১টি কন্টেইনমেন্ট জোন রয়েছে। সেগুলি আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে।
দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, “দিল্লিতে বর্তমানে প্রতিদিন ২৫০০-এর বেশি আক্রান্ত ও ৭৫ জনের মতো মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। অন্তত ৪৫ শতাংশ ঘটনা কন্টেইনমেন্ট জোন থেকেই আসছে।”
এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে কড়া পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা আলাদা টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনারদের। এছাড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরশনের আধিকারিকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে যে আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, সেই অ্যাপেরও ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সমস্ত নাগরিকদের এই অ্যাপ ইনস্টল করার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
কন্টেইনমেন্ট জোনগুলিতে অতিরিক্ত পরিমাণে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে। এই সিসিটিভির মাধ্যমে বাসিন্দাদের যাতায়াতের উপর নজর দেওয়া হবে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের নির্দেশ মতো র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সব কিছুর উপর নজর রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত রোগীদের কোভিড ১৯ কেয়ার সেন্টারে থাকা বাধ্যতামূলক। যাঁদের কো-মর্বিডিটির সমস্যা নেই, তাঁদের ব্যবস্থা থাকলে হোম আইসোলেশনে থাকতে পারেন।
বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে জানান, “দিল্লির হোম আইসোলেশন পরিকল্পনা খুব ভালভাবে কাজ করছে। আমি নিজে অনেক রোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি কেন্দ্রের কাছেও আবেদন করতে চাই, এই ব্যাপারে দিল্লি সরকারের পাশে থাকার জন্য।”