শেষ আপডেট: 8 February 2020 14:26
এখানে বলে রাখা ভাল বুথ ফেরত সমীক্ষা সব সময়েই সঠিক ফলাফলের ইঙ্গিত করে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এও দেখা যাচ্ছে, অনেক সংস্থাই সমীক্ষায় সঠিক ট্রেন্ডকে ধরতে পারছে। এর মধ্যে অ্যাক্সিস অন্যতম। ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা ভোটের এক্সিট পোল ব্যতিরেকে এখনও পর্যন্ত বুথ ফেরত সমীক্ষায় তার ষোল আনা সঠিক পূর্বানুমান করেছে। সেই কারণে দ্য ওয়াল-এ তাদের সমীক্ষাই প্রকাশ করা হল।
দিল্লিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ৩৬ টি আসনে জেতা জরুরি। গত বিধানসভা ভোটে ৭০ টি আসনের মধ্যে আপ জিতে নিয়েছিল ৬৭ টি আসন। কেন্দ্রে সদ্য ক্ষমতা দখল করার পরেও সেই ভোটে মাত্র তিনটে আসনে জিতেছিল বিজেপি। আর কংগ্রেস খাতাই খুলতে পারেনি।
এ বার সেই দিল্লিতে নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াইয়ে নিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়েছিলেন দিল্লিতে। কেন্দ্রের প্রায় সব মন্ত্রী, বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা দিল্লির মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে প্রচার করেছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে যে আন্দোলন চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির নির্বাচনকে চড়া ধর্মীয় মেরুকরণের তারে বাঁধতে চেয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।
কিন্তু বুথ ফেরত সমীক্ষার মতে, উন্নয়নের কেজরিওয়াল মডেলের পক্ষে ভোট দিয়েছে মানুষ। কী সেই মডেল-- তা হল প্রায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ, মহিলাদের জন্য বাসের টিকিটের ভাড়া তুলে দেওয়া, বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইত্যাদির মতো প্রকল্প।
অনেকের মতে, এই ধরনের জনমোহিনী নীতি তথা অন্ধ পপুলিজম আখেরে দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকারক। এই খয়রাতির রাজনীতি দেশের ভাল করতে পারে না। কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে যা যুক্তিসঙ্গত, রাজনৈতিক ভাবে তার মূল্য অনেক সময়েই থাকে না।
সন্দেহ নেই বুথ ফেরত সমীক্ষার এই ফলাফল প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে মিলে গেলে বিজেপির জন্য তা বড় ধাক্কা বইকি। লোকসভা ভোটের পর একের পর এক রাজ্যে বিপর্যয়ের মুখ দেখতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। হরিয়ানায় তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। শেষমেশ জোট সরকার গড়তে হয়েছে। মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হলেও শরিক শিবসেনার সঙ্গে বনিবনার অভাবে সরকার হাত ছাড়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে আঞ্চলিক দলের কাছে ডাহা হেরেছে তারা। এবার দিল্লিতেও মুখ পুড়লে আখেরে মোদী-অমিত শাহর ব্যর্থতা বলেই সবাই তুলে ধরতে চাইবে।
যদিও বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকৃত ট্রেন্ডই তুলে ধরলে বুঝতে হবে স্থানীয় বিষয়আশয়ের উপর ভোট হয়েছে। তা ছাড়া বিজেপির জন্য এই ফলাফল নেতিবাচক নয়। গত ভোটে মাত্র তিনটে আসনে জিতেছিল বিজেপি। সেই তুলনায় এবার বহুগুণে বাড়বে আসন সংখ্যা।