দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রবিবার সকালে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে দেশে সংখ্যাটা ৩১৫। এক লাফে এই সংখ্যা বেড়েছে ৩২। এভাবে ক্রমাগত সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন।
শনিবার শেষ যে তথ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক দিয়েছিল, তাতে ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮৩। সেই সংখ্যাটাই রবিবার সকালে বেড়ে হল ৩১৫। মহারাষ্ট্রে এই আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি। উদ্ধব ঠাকরের রাজ্যে ৬৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে।
গতকাল পুনের এক মহিলা ও পশ্চিমবঙ্গের দমদমের এক ব্যক্তির শরীরে এই জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। এই দু'জন সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও বেড়াতে যাননি। আর তারপরেই চিন্তার ভাঁজ আরও বেড়েছে। তাহলে কি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের স্টেজ ৩-তে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সবথেকে ভয়ঙ্কর। একবার তা শুরু হয়ে গেলে সংখ্যাটা হু হু করে বাড়ে। ইতালি ও স্পেনের ক্ষেত্রে এমনটাই দেখা গিয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রুখতে আজ সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে 'জনতা কার্ফু'র ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীকে একত্রিত হয়ে এই লড়াইয়ের আহ্বান করেছেন তিনি। আজ সকাল থেকেই গোটা ভারতের ছবিটা প্রায় একই রকম। দোকান-পাঠ বন্ধ। রাস্তায় লোক চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। বন্ধ রাখা হয়েছে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকাও। সব মিলিয়ে দেশবাসী মোদীর এই 'জনতা কার্ফু' স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই পালন করছেন।
এই পরিস্থিতিতে একে একে লকডাউনের পথে এগোচ্ছে দেশের এক একটি শহর। প্রায় অবরুদ্ধ হওয়ার পথে দাঁড়িয়ে গোটা দেশ।
পূর্ব ভারতের ওড়িশার ৫টি জেলা ও আটটি শহর লকডাউন করে দেওয়ার ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। ২৯ মার্চ পর্যন্ত খুর্দা, গঞ্জাম, কটক, আঙুল, কেন্দ্রাপড়া– এই পাঁচটি জেলা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। কেবল জরুরি পরিষেবা ছাড়া আর কিছু চলবে না।
করোনা-আতঙ্কে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকারও। এই রাজ্যেই এখনও রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী মুম্বই-সহ চারটি শহরে সম্পূর্ণ লকডাউন করে দেওয়া হল। মুম্বই ছাড়াও যেখানে এই লকডাউন হয়েছে পুণে, পিম্পরি চিঞ্চবাদ এবং নাগপুর।
দিল্লি, লখনউয়ের ছবিটাও প্রায় একই রকম। সরকারি ঘোষণা না হলেও দু’ঠি শহরই প্রায় অবরুদ্ধ। প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে কোনও সময়ে পুরোপুরি লকডাউন করা হতে পারে সুরক্ষার স্বার্থে।
উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবন মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর সমস্ত মন্ত্রীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী রাজ্য উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের সমস্ত হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। কর্নাটকের ধারওয়ারে এবং উত্তর গোয়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
লকডাউনের পথে হেঁটেছে রাজস্থানও। আজ শনিবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।এই মুহূর্তে সে রাজ্যে যা পরিস্থিতি তাতে লক ডাউন ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে ঘোষণা করেন তিনি।
গুজরাটও সম্পূর্ণভাবে লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবার বাইরে কোনও কিছুই খোলা রাখা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
পশ্চিমবঙ্গ এখনও লকডাউনের পথে না হাঁটলেও, সতর্কতা ক্রমেই প্রখর হচ্ছে আরও। ট্রেন-বাস নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে, সমস্ত জমায়েত বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ হয়েছে রেস্তরাঁ, পাব, আমোদপ্রমোদের জায়গাগুলি।