দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের কয়লাখনি গুলিতে খননের ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর জন্য দ্বিস্তরীয় নিলাম প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ। কয়লাখনি গুলিতে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা লকডাউন শেষ হল বলেই জানিয়েছেন তিনি।
মোদী এদিন জানিয়েছেন, "কয়লা সবার জন্য। তাই কয়লার বাজার খোলা হল। সব ক্ষেত্রকে সাহায্য করবে এই কয়লাক্ষেত্র।" এই নিলাম পদ্ধতিতে কয়লাখনির ক্ষেত্রে অর্থ ও প্রযুক্তির বিনিয়োগ ঘটবে বলেই আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাথমিক ভাবে ৪১ টি কয়লাখনিকে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কয়লাখনির মধ্যে থেকেই হিরে খুঁজে আনতে হবে আমাদের। আমাদের স্বপ্ন একদিন সফল হবে। এই পদ্ধতিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলি নতুন বাজার পাবে। বিনিয়োগের পরিসর আরও বাড়বে। ফলে আখেরে ভারতেরই অর্থনীতির ক্ষেত্রে লাভ বাড়বে।"
এদিন এই ঘোষণা করার সময় ভিডিও বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "করোনা সংক্রমণ আমাদের আত্মনির্ভর হতে শিখিয়েছে। আর এই আত্মনির্ভর হওয়ার প্রথম ধাপ হল বিদেশি আমদানির পরিমাণ কমানো। সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।"
ভারত বিশ্বের জ্বালানি শক্তির ভান্ডার হিসেবে চতুর্থ স্থানে থাকলেও বিদেশ থেকে কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশ। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এর কারণ হল দশকের পর দশক ধরে আমাদের কয়লাখনি গুলিতে লকডাউন চলেছে। ফলে আমাদের জ্বালানি শক্তির সঠিক ব্যবহার আমরা করতে পারছি না। সেই পথেই এদিনের সিদ্ধান্ত বড় পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, এই বেসরকারিকরণের ফলে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে একটি বড় বাজার তৈরি করা সম্ভব হল। এবার থেকে বিদেশেও আমাদের জ্বালানির চাহিদা বাড়বে। এছাড়া এই খনিগুলিতে কাজের জন্য বেকারত্বের সমস্যাও বেশ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রধানমন্ত্রীর।
কয়লাখনি গুলিতে এই নিলামের ফলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে অন্তত ৩৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে বলে আশা প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া এই খনিগুলি থেকে পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
করোনা সংক্রমণের পরে দেশের অর্থনীতিকে ফের তুলে ধরতে গত মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আত্মনির্ভর ভারত গঠনের স্বার্থে এই প্যাকেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই কয়লাখনি নিলামের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। কয়লাখনি গুলোয় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্লক নিলামের সুপারিশ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেই সুপারিশ মেনে এদিন ব্লক নিলাম পদ্ধতিতে গতি আনতে উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী।