চিন থেকে করোনা টেস্ট কিট কিনবে না ভারত, বরাত বাতিল মোদী সরকারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে ভারতে কোভিড ১৯ মোকাবিলায় যে টেস্ট কিট পাঠানো হয়েছে, তারা মধ্যে অনেক গণ্ডগোল রয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ইতিমধ্যেই সব রাজ্যকে ওই টেস্ট কিট ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। তার সঙ্গে জানা গিয়েছে প্রায় দ্বি
শেষ আপডেট: 27 April 2020 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে ভারতে কোভিড ১৯ মোকাবিলায় যে টেস্ট কিট পাঠানো হয়েছে, তারা মধ্যে অনেক গণ্ডগোল রয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ইতিমধ্যেই সব রাজ্যকে ওই টেস্ট কিট ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। তার সঙ্গে জানা গিয়েছে প্রায় দ্বিগুণ দামে ওই কিট কিনতে হচ্ছে ভারতকে। একথা জানার পরেই মোদী সরকার ঠিক করেছে চিন থেকে করোনা টেস্ট কিট কেনা হবে না। সব বরাত বাতিল করা হয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে পাঠানো টেস্ট কিটগুলি চিনের দুটি কোম্পনাই গুয়াংঝু ওয়ান্ডফো বায়োটেক ও ঝুঝাই লিভঝন ডায়াগনস্টিক্স তৈরি করে। এই কিটগুলিতে গাফিলতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ।
আইসএমআর-এর তরফে সব রাজ্য ও হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই দুটি কোম্পানির তৈরি টেস্ট কিট ব্যবহার না করতে। আর তাই এই মুহূর্তে একটা পয়সাও অতিরিক্ত খরচ করতে রাজি নয় কেন্দ্র। ফলে সব অর্ডার ক্যান্সেল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার।
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে জানা যায় এই চিনা কোম্পানিগুলি টেস্ট কিট বিক্রি করে কত মুনাফা করছে। জানা যায়, চিন থেকে করোনার র্যাপিড টেস্টের প্রতিটি কিট ডিস্ট্রিবিউটরকে বেচেছিল ২৪৫ টাকায়। ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থা সেই কিট ভারত সরকারকে বেচেছে প্রতিটি ৬০০ টাকায়। এইভাবে বিপুল লাভ করেছে তারা। শুধু তাই নয়, চিন থেকে আনা কিটগুলিতে নানা খুঁত আছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি ব্যবহারই করছে না অনেক রাজ্য। একটি সংস্থা টেস্ট কিট বেচে বিরাট মুনাফা করেছে বলে জানাজানি হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় নানা মহলে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, অবিলম্বে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
গত ২৭ মার্চ সরকারি সংস্থা আইসিএমআর চিন থেকে ৫ লক্ষ র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট আনার অনুমতি দেয়। গত ১৬ এপ্রিল চিনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিসরি টুইট করে জানান, ভারতে সাড়ে ৬ লক্ষ কিট পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে আছে র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট ও আরএনএ এক্সট্রাকশন কিট।
টেস্ট কিটগুলি ভারতে আনে আমদানিকারী সংস্থা ম্যাট্রিক্স। তারা চিন থেকে প্রতিটি কিট ২৪৫ টাকা দরে কিনেছিল। কিন্তু ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থা রিয়েল মেটাবলিকস সেই কিট সরকারকে বিক্রি করে প্রতিটি ৬০০ টাকা দরে।
এর মধ্যে তামিলনাড়ু সরকারও ম্যাট্রিক্সকে দিয়েই চিনা কিট আনায়। কিন্তু তারা অন্য ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ করেছিল। তার নাম শান বায়োটেক। রিয়েল মেটাবলিকস তখন হাইকোর্টে অভিযোগ করে, তারা ভারতে ওই কিটের একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর। শান বায়োটেককে ডিস্ট্রিবিউটর হিসাবে নিয়োগ করে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।
হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রতিটি কিটের দাম যেন ৪০০ টাকার বেশি না নেওয়া হয়। বিচারপতি বলেন, গত একমাস ধরে অর্থনীতির বিকাশ স্তব্ধ হয়ে আছে। অতিমহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আরও বেশি কিট চাই। জনস্বার্থের বিষয়টিকে ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারপরেই এই বরাত বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।