দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া রিপোর্টে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও শ্রমিক রাস্তায় নেই, প্রত্যেককে শেল্টারে রাখা হয়েছে। এই জবাবের পরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শ্রমিকদের যাতে থাকা-খাওয়ার কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে। সেইসঙ্গে তাঁরা যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, তার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। দরকার পড়লে সব ধর্মের গুরুদের নিয়ে এসে সেই কাউন্সেলিং করাতে হবে। এমনকি ভজন, কীর্তন, নমাজের আয়োজন করা যেতে পারে বলেও কেন্দ্রকে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, “কেন্দ্রকে নিশ্চিত করতে হবে, যে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা থেকে আটকানো হয়েছে, তাঁদের থাকা খাওয়ার যেন কোনও সমস্যা না হয়। দরকার মতো যেন তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।”
দেশের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এই অবস্থায় কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। এই ভয় ও আতঙ্ক কিন্তু ভাইরাসের থেকেও ক্ষতিকর। আর তাই আপনাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের মানসিক শক্তি জোগাতে ভজন, কীর্তন, নমাজের আয়োজন করতে পারেন। এই সময় বিভিন্ন ধর্মের গুরুদের এইসব ক্যাম্পে নিয়ে আসুন। তাঁরা সেইসব শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মানসিক জোর বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। তাঁদের শান্ত রাখতে হবে। মনের মধ্যে যেন ভয় না ঢোকে। আর এসবের ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রকে।”
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “আমি এখানে বলছি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মগুরুদের বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে কাউন্সেলিং করা হবে। আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু, সাধু, মৌলবিদের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আমরাই করব।”
লকডাউন চলাকালীন ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের কী অবস্থা তা জানতে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার উত্তরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় রাস্তায় কেউ নেই। প্রত্যেক শ্রমিককে কাছাকাছি শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবার খাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। সব রাজ্যগুলিকেও এই ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।”
দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পরেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়েন ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন আনি দিন খাইয়ের সংসারে খাবার জুটছে না। আর তাই এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজ্যে ফিরতে চান তাঁরা। কিন্তু ট্রেন-বাস সব বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ বন্ধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই স্রেফ হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ না অন্য কিছু উপায় বের করেছেন ফিরে যাওয়ার। পায়ে হেঁটে ফিরতে গিয়ে খাবারের অভাবে রাস্তাতেই একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের গণ্ডগোল হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালতে একটি পিটিশন ফাইল হয়েছিল। সেই পিটিশনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রকে একটি কমিটি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি।