দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশান্তির আশঙ্কায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষকে। নির্বাচনী বিধির জন্য তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল যাদবপুর ক্যাম্পাসেও। এবার শুধু ক্যাম্পাস নয়। অসম সরকার জানিয়ে দিল, সেই রাজ্যের রাস্তাতেও ঐশী ঘোষকে সভা করতে দেওয়া হবে না। অসম পুলিশ বাম ছাত্রনেতাদের সে কথা জানিয়েও দিয়েছে। কিন্তু তাও পাল্টা চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুয়াহাটি যাচ্ছেন বাম ছাত্রনেতা-নেত্রীরা।
গুয়াহাটি ও হাইলাকান্দি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দুটি সভায় বক্তৃতা করার কথা ঐশী ঘোষ এবং এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসের। আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ সভা হওয়ার কথা। কিন্তু বাম ছাত্র সংগঠনের অসম রাজ্য কমিটিকে পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই ওই দু’জনকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার সকালে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী ময়ূখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওখানে আমরা যাবই। আমি এবং ঐশী দু’জনেই যাব। তারপর আটক করুক, জেলে ভরুক দেখা যাবে। কিন্তু আমরা যাবই।”
এসএফআইয়ের অভিযোগ, বক্তাদের নামের তালিকা দিয়েই অসম পুলিশের থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল ১৫ দিন আগে। সেই সময়ে পুলিশ কোনও আপত্তি জানায়নি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মসূচির প্রচার হতেই তৎপর হয়ে ওঠে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। বজরং দল থেকে আরএসএস—একাধিক সংগঠনের একাধিক নেতা প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, ঐশী বক্তৃতা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তাই প্রশাসন যেন আগে থেকে নেয়।
জানা গিয়েছে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়াল, অসম পুলিশের ডিজি, আইজি (আইনশৃঙ্খলা)—প্রশাসনের সমস্ত স্তরে বজরং দল ও আরএসএস চিঠি লিখে ঐশীকে রোখার আবেদন জানায়। যদিও বজরং দলের এক নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “ঐশী যাওয়া মানেই হিংসা ছড়াবে। জেএনইউয়ের ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। আমরা শুধু প্রশাসনকে সতর্ক করেছি। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সেটা আমাদের কর্তব্য।”
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শুরুর পর্বে আগুন জ্বলেছিল অসমে। মৃত্যু হয়েছিল অনেকের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অসম সফর বাতিল করতে হয় সে সময়ে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তারপর আস্তে আস্তে অসমের পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়েছে। তাই পুলিশ প্রশাসন হয়তো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাইছে না।