দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্য মণিপুর হঠাৎ করেই রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে। একের পর এক ঘটনায় যখন চাপে বিজেপি সরকার তখন রাজ্যসভা ভোটের ফলাফল এবং গেরুয়া শিবিরের কৌশল দেখে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি বিজেপি খেলা ঘোরাতে শুরু করে দিল?
রাজ্যসভার একটি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারাল বিজেপি। কংগ্রেসের টি মাঙ্গিবাবুকে হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী লেসিয়েম্বা সানাজাওবা। একইসঙ্গে মণিপুরে পৌঁছনোর পর কংগ্রেস হাইকম্যান্ড-এর দুই নেতা অজয় মাকেন ও গৌরব গগৈকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য দফতর। একথা টুইট করে জানিয়েছেন বিজেপির অন্যতম নেতা রাম মাধব।
এমনিতেই বিজেপির বীরেন সিং সরকারের পক্ষে ম্যাজিক ফিগার ছিল না। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, টাকা আর গায়ের জোরে সরকার দখল করে রেখেছে গেরুয়া শিবির। এর মধ্যেই বিজেপির তিন বিধায়ক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। তারপর শরিকদল ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চার মন্ত্রী। উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী জয়কুমার সিং, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী লেটপাও হাওকিপ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এল জয়ন্ত কুমার সিং এবং উপজাতি ও পাহাড়ি এলাকা উন্নয়ন মন্ত্রী এন কায়িশি তাঁদের ইস্তফাপত্র মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংকে পাঠিয়ে দেন।
৬০ আসনের বিধানসভায় বিজেপির সমর্থন এসে দাঁড়ায় ১৮-তে। অনাস্থা আনার প্রক্রিয়া শুরু করে কংগ্রেস। ঘর গোছাতে মণিপুর পৌঁছে যান অসমের ভূমিপুত্র গৌরব এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন। রাজ্যপালের কাছে গিয়ে আস্থা ভোটের দাবিও জানিয়ে আসে কংগ্রেস প্রতিনিধি দল।
রাম মাধব বলেছেন, করোনা সতর্কতার গাইডলাইন উপেক্ষা করে মণিপুরে গিয়েছেন অজয় মাকেন এবং গৌরব গগৈ। তাই সেখানকার স্বাস্থ্য দফতর তাঁদের কোয়ারেন্টাইন করেছে।
গতকাল রাজ্যসভার যে ২৪টি আসনে ভোট হয়েছে তাতে মণিপুরের ছিল একটি। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ২৮টি ভোট। অর্থাৎ, দু'দিন আগে যে সংখ্যা ছিল ১৮ তা রাতারাতি ২৮ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বলছেন, তাহলে কি গেরুয়া শিবিরও পাল্টা খেলা ঘোরাতে ময়দানে নেমে পড়েছে?
বাংলার এক কংগ্রেস নেতা বলেন, "জন বার্লা, সুকান্ত মজুমদারদের যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ কোয়ারেন্টাইন নোটিস দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখছে তখন বাংলার বিজেপি নেতারা বলছেন গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আর মণিপুরে সেই বিজেপির প্রশাসনই আমাদের হাই কম্যান্ড-এর দুই নেতাকে কোয়ারেন্টাইন করে রেখেছে। যাতে তাঁরা বিধায়কদের সঙ্গে দেখা না করতে পারেন। আসলে তৃণমূল, বিজেপি দুটো দলেরই চরিত্র এক।"