লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন পুরুষরা, অন্ধ্রের গ্রামে রোজ ২৬ হাজার পিপিই কিট বানিয়ে সংসার টানছেন মেয়েরাই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের ফলে গ্রামের পুরুষরা কাজ হারিয়েছেন। ফলে সংসার চালাতে কাজ করতে হচ্ছে মহিলাদেরই। যে সে কাজ নয়, করোনা মোকাবিলায় পিপিই কিট বানাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের লাক্ষাভরম গ্রামের ২০০ মহিলা। একদিকে সরকারকে সাহায্য, অন্যদিকে সংসার চাল
শেষ আপডেট: 14 May 2020 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের ফলে গ্রামের পুরুষরা কাজ হারিয়েছেন। ফলে সংসার চালাতে কাজ করতে হচ্ছে মহিলাদেরই। যে সে কাজ নয়, করোনা মোকাবিলায় পিপিই কিট বানাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের লাক্ষাভরম গ্রামের ২০০ মহিলা। একদিকে সরকারকে সাহায্য, অন্যদিকে সংসার চালানো দুটোই করছেন তাঁরা।
পূর্ব গোদাবরী এলাকায় একটি টেলরিং সংস্থার হয়ে কাজ করছেন এই মহিলারা। প্রতিদিন ২৬ হাজার পিপিই কিট বানাচ্ছেন তাঁরা। তার মধ্যে ১৫ হাজার মাস্ক, ৬০০০ শু কভার ও ৫০০০ ল্যাবরেটরি কোট বানিয়ে অন্ধ্র সরকারকে পাঠাচ্ছেন তাঁরা। এই পিপিই কিট দেওয়া হচ্ছে কোভিড মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশদের। কোট দেওয়া হচ্ছে ডাক্তার ও গবেষণার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের।
এই কাজের জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন এই মহিলারা। তাই দিয়েই সংসার চলছে তাঁদের। গ্রামের পুরুষরা যখন বেকার হয়ে ঘরে বসে তখন সব দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন মহিলারা।
জ্যোতি নামের এক তরুণী জানিয়েছেন, “আমার বাবার ফলের ব্যবসা ছিল। সেই টাকা থেকেই সংসার চলত। এখন সেই ব্যবসা বন্ধ। তাই ৪০ দিন ধরে এই কাজ করছি আমি। আমিই এখন সংসার চালাই।” মাধবী নামের আর এক তরুণীর বাবা দিন মজুরের কাজ করতেন। সেই টাকাতেই পরিবারের পাঁচ সদস্যের পেট চলত। কিন্তু এখন তা বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে এই কাজ শুরু করেছেন তিনি। একই গল্প বাকিদেরও।
ওই টেলরিং ইউনিটকে এই কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে ‘১এম১বি’ নামের একটি এনজিও। এই এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা মানব সুবোধ বলেন, “অনেক দিন মজুর নিজেদের কাজ হারিয়েছেন। এই মেয়েদের সেলাই করার প্রতিভা ছিলই। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই খুব গরিব ঘরের। তাই তাঁরাই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। রোজগারই শুধু করছেন না, পিপিই কিট বানিয়ে সরকারকে সাহায্যও করছেন।”
এই কাজের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফে কাপড় দেওয়া হচ্ছে। সেই কাপড় ব্যবহার করে নিজেদের হাতের জাদুতে পিপিই কিট বানিয়ে ফেলছেন মেয়েরা। তারপর তা প্রতিদিন পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে। তাঁরাই বিলি করে দিচ্ছেন সেই সব কিট। এভাবেই দেশের বাকি গরিব মানুষদেরও বাঁচার এক আশা দেখাচ্ছেন এই ২০০ মহিলা।