দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল পাক রেঞ্জার্স। তার জবাবেই মঙ্গলবার পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় সেনা। সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, এই প্রত্যাঘাতে গুড়িয়ে গিয়েছে সীমান্ত রেখা বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাতটি চৌকি। এর পাশাপাশি অন্তত তিনজন পাক রেঞ্জার্সের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর। সেনা সূত্রে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাখচিকরি এবং রাওয়ালকোটের সাতটি সেনা চৌকি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে নিয়ত্রণ রেখা বরাবর এলাকা। সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি, পুঞ্চ এবং নৌসেরা সেক্টর বরাবর গুলি চালাতে শুরু করে পাক সেনা। পাক রেঞ্জার্সের মর্টারে শেলিংয়ে নিহত হন এক বিএসএফ জওয়ান এবং পাঁচ বছরের এক শিশু। এরপরেই পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। মৃত্যু হয় তিনজন পাক সেনার। এই ঘটনায় পাক সেনাবাহিনীর আরও অনেকে জখম হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনা।
সোমবার বিকেল থেকেই শুরু হয় গুলির লড়াই। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আচমকাই গুলি ও মর্টার শেল ছুড়তে শুরু করে পাক সেনা। একজন বিএসএফ অফিসার এবং এক কিশোরীর মৃত্যু ছাড়াও আহত হন কমপক্ষে ২৪ জন। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীও শুরু করে গোলাবর্ষণ। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলে গুলির লড়াই। সূত্রে খবর, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা 'র'-এর পক্ষ থেকেও নাকি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে তিন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এবং আহত হয়েছে আরও কয়েকজন পাক সেনা। যদিও ভারতীয় সেনার দাবি, আহত পাক সেনার সংখ্যা খুব কম নয়।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। এই ঘটনার তেরো দিনের মাথায় পাক অধিকৃত বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ুসেনা। গুঁড়িয়ে দেয় জইশের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্রিয় ঘাঁটি। এরপর থেকেই বারবার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা। সোমবারও ভারী গোলাবর্ষণ হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এলাকার সাধারণ মানুষ। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।