দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯২০ দিন আগে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পুনম। তারপরে আর বাড়ি ফেরেননি। গত ৫ বছর ধরে হাসপাতালেই ভর্তি তিনি। অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। একদিকে হাসপাতালের তরফে পরিবারের লোকেদের বলা হচ্ছে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু নাছোড়বান্দা পরিবারও। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের গাফিলতিতেই আজ পুনমের এই হাল। ভাল করে চিকিৎসা করলে এখনও তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আর এই ৫ বছরে পুনমের হাসপাতালের বিল হয়েছে ৬ কোটি টাকা।
২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর পেটে সাংঘাতিক ব্যথা নিয়ে বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন পেশায় বিজনেস রিপোর্টিং অ্যানালিস্ট ২৮ বছরের পুনম। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, তাঁর অন্ত্রে ফুটো হয়েছে। তাই পেটে ব্যথা। অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে আর হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেননি তিনি।
জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পরে তাঁর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। কোমার পর্যায়ে চলে যান তিনি। হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, পুনমকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু আশা ছাড়েননি পরিবারের লোকেরা। ধীরে ধীরে নাকি কোমা থেকে বেরিয়ে আসেন পুনম। বেশ কিছুটা সুস্থও হয়ে ওঠেন। কিন্তু তারপরেই নাকি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা যায় তাঁর। সেই থেকে একই রকমের রয়েছেন পুনম। কোনও উন্নতি হয়নি।
এই ৫ বছরে ২০ জনের বেশি চিকিৎসক পুনমের চিকিৎসা করেছেন। একাধিক বার অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। বিভিন্ন উন্নত মানের যন্ত্রের সাহায্যেই এই মুহূর্তে বেঁচে রয়েছেন পুনম। এত বছর হাসপাতালে থাকা, চিকিৎসা, ওষুধ সব মিলিয়ে বিল হয়েছে ৬ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দিয়েছেন তাঁর পরিবার।
পুনমের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর এই অবস্থার জন্য দায়ী হাসপাতাল। স্বামী রাজেশ নায়ার জানিয়েছেন, সামান্য পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পুনম। অন্ত্রে ফুটো থাকায় অপারেশন করতে গিয়ে আজ একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছে তাঁর। এই ৫ বছরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে প্রশাসন, অনেকের কাছে গিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের তরফে নাকি তাঁকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ রাজেশ।
রাজেশের অভিযোগ, পুনমের অস্ত্রোপচার করতে গিয়েই গাফিলতি হয় হাসপাতালের। নিজেদের ভুল লুকোতে গিয়ে হাসপাতাল জানায়, পুনম যখন সেখানে গিয়েছিল তখনই তার শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। তারপরেও পুনম সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু তখনই তাঁর ওষুধ হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রাজেশের। তার ফলে শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। রাজেশের মতে, পুনম এখনও লড়াই চালাচ্ছেন। আর এই লড়াইয়ে তাঁরা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের তিনি বারবার একটি সাহায্যের আবেদন করছেন। তাঁর এখনও বিশ্বাস, সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন তাঁর স্ত্রী।
এই প্রসঙ্গে অবশ্য চিকিৎসক মহলের বক্তব্য অনেকটাই মিলে যাচ্ছে পুনমের পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে যদি কারও অন্ত্রে ফুটো থাকে ও সেপসিস হয় তাহলে অস্ত্রোপচারের পরে এক থেকে তিন মাস লাগে সুস্থ হয়ে উঠতে। কিন্তু কেন ৫ বছর ধরে ওই যুবতী ভর্তি রয়েছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।