দ্য ওয়াল ব্যুরো : থানার ভেতর নগ্ন করে তিন বোনকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বড় বোনের গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁর স্বামীকেও নগ্ন করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি অসমের দাড়ং জেলার। জানা গিয়েছে, ওই তিন যুবতীর ভাই অন্য ধর্মের একটি মেয়ের সাথে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে ওই যুবতীর পরিবার। পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলে সেই সময় বাড়িতে তিন বোন ও বড় বোনের স্বামী ছিল। তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়। তারপর নগ্ন করে মারধর করা হয়।
তিন বোনের মধ্যে সবথেকে বড় বোন দাড়ং-এর পুলিশ কমিশনার অমৃত ভুয়ানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটার পরেই তাঁরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ার তাঁরা কমিশনারের দ্বারস্থ হন। তারপরেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুবতীর অভিযোগ, ৯ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টা নাগাদ বাড়ি থেকে তাঁদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক পুরুষ ও এক মহিলা পুলিশ ছিলেন। তাঁরা প্রথমে তাঁর স্বামীকে অন্য একটা ঘরে বন্ধ করে দেন। তারপর প্রথমে সবথেকে ছোট বোনকে নগ্ন করা হয়। তার পায়ে ও গোপনাঙ্গে লাঠি দিয়ে মারা হয়। তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ।
যুবতী আরও জানান, আর এক বোনকেও নগ্ন করে মারা হয়। তারপর তাঁকে নগ্ন করে মারতে শুরু করেন দুই পুলিশ। তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তিনি দু'মাসের গর্ভবতী। এ কথা শুনে নাকি তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। সেখানেই তাঁর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর স্বামীকেও সবার সামনে নগ্ন করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
যুবতী জানিয়েছেন, দুই পুলিশ কর্মী বারবার বলছিলেন, তাঁরা নাকি তাঁদের ভাইকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁরা জানতেন না ভাই কোথায় পালিয়েছে। পুলিশের মারে তাঁদের শরীরের একাধিক জায়গায় কালশিটে পড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, এর মধ্যেই থানায় এসে পৌঁছন তাঁদের ভাই। যে যুবতীকে নিয়ে তিনি পালিয়েছিলেন, তিনিও আসেন। ভাই আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তিন বোন ও এক বোনের স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপরেই থানায় অভিযোগ করেন তাঁরা।
এই খবর জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ওই দুই পুলিশ কর্মীর নাম মহেন্দ্র শর্মা ও বিনীতা বোরো। দু'জনকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। অসম পুলিশের ডিজি কুলাধার সাইকিয়া জানিয়েছেন, দুই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে। তিন যুবতী ও একজনের স্বামীর মেডিক্যাল রিপোর্ট চলে এসেছে। সেখানে মারধরের উল্লেখ রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত গর্ভপাতের ব্যাপারটা নিশ্চিত নয়। সেটাও মেডিক্যাল পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার।