দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের গণপিটুনির ঘটনা ঘটল অসমে। দুটি আলাদা ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে ও আরও এক যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটেছে এই দুটি ঘটনা। এক জায়গায় পারিবারিক বিবাদের জেরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্য ঘটনায় চোর সন্দেহে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। যদিও সময়ে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় বাঁচানো গিয়েছে যুবককে। হাসপাতালে ভর্তি তিনি।
একটি ঘটনা ঘটেছে মধ্য অসমের বিশ্বনাথ চরিয়ালি এলাকায়। জানা গিয়েছে, এই এলাকায় প্রতাপগড় চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করতেন সাবিন গৌর ও নবীন গৌর নামের দুই ভাই। বৃহস্পতিবার দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়া গড়ায় হাতাহাতিতে। সেই সময় বড় ভাই সাবিন একটা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছোট ভাই নবীনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় নবীন গুরুতর আহত হন। তাঁকে কোনও রকমের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর।
পুলিশ সূত্রে খবর, নবীনের বন্ধুরা এই হামলার কথা জানতে পারে। তারা শুক্রবার এসে সাবিনকে বেধড়ক মারধর করা শুরু করে। একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে মারধর শুরু হয়। সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন সাবিন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ এলাকার পুলিশ এসে সাবিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পরে লেপা নায়ক, ভয়া নায়ক, লালা নায়ক ও মহেশ গৌর নামের চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
আর একটি ঘটনা ঘটেছে শনিবার। বঙ্গাইগাঁও শহরের দেবনগাওঁ এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। জানা গিয়েছে, মাজেন নাথ নামের এক ব্যক্তি নেশার ঘোরে শনিবার ভোরে কমলেশ্বর নাথ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়েন। এক মহিলা তাঁকে শুয়ে থাকতে দেখে দরজা বন্ধ করে প্রতিবেশীদের খবর দেন। সবাই মিলে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করেন মাজেনকে।
যদিও ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বৈতামারি থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সবসময়ই নেশার ঘোরে থাকেন মাজেন। তাই কমলেশ্বর নাথের বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে তিনি ভিতরে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়েন। চুরি করতে যাননি তিনি।
অসমে এই ধরণের ঘটনা এবছর আরও ঘটেছে। এর আগে কামরূপে চোর সন্দেহে এক সব্জি বিক্রেতাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। আর একটি ক্ষেত্রে অসমের জোড়হাটে শ্লীলতাহানির অভিযোগে চা’বাগানের শ্রমিক এক যুবককে পিটিয়ে মারে অন্য শ্রমিকরা। তারপরেও গণপিটুনির জোড়া ঘটনা ঘটল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে।