কলকাতায় উদ্ধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা
দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলছিল ড্রেজিংয়ের কাজ। হঠাৎ করেই ভারী কিছুতে আঘাত লাগে। জল থেকে তুলে আনার পরেই চক্ষু চড়কগাছ কর্তব্যরত কর্মীদের। এ কী? এক বিশাল আকারের বোমা। এই বোমা নিয়েই চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়।
ঘটনাটি কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার। এখানকার নেত
শেষ আপডেট: 30 December 2018 04:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলছিল ড্রেজিংয়ের কাজ। হঠাৎ করেই ভারী কিছুতে আঘাত লাগে। জল থেকে তুলে আনার পরেই চক্ষু চড়কগাছ কর্তব্যরত কর্মীদের। এ কী? এক বিশাল আকারের বোমা। এই বোমা নিয়েই চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়।
ঘটনাটি কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার। এখানকার নেতাজি সুভাষ ডকে চলছিল ড্রেজিংয়ের কাজ। সেই সময়ই উদ্ধার হয় ১ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বোমা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় ওয়েস্ট পোর্ট থানায়। সেখানে ছুটে আসে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় নৌবাহিনী ও সেনাকেও। নৌবাহিনী ও সেনার আধিকারিকরাও এসে উপস্থিত হন সেখানে।
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার জানিয়েছেন, "ড্রেজিংয়ের কাজ করার সময় দুপুর ২টো নাগাদ সাড়ে চার মিটার লম্বা এই বোমা উদ্ধার হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল এটি একটি টর্পেডো। কিন্তু নৌবাহিনীর তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এটি একটি বোমা।"
অনেকদিন পর নাড়াচাড়া হওয়াতে বোমা ফেটে যেতে পারে বলে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। পশ্চিমবঙ্গের নৌবাহিনীর দায়িত্বে থাকা সুপ্রভ কুমার দে জানিয়েছেন, "এই বোমার ওজন সাড়ে ৪০০ কেজি। মূলত ফাইটার প্লেন থেকেই এই বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমার লক বন্ধ করা আছে। তাই আপাতত এটা থেকে কোনও ভয় নেই। একটা নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়লে তবেই এই ধরণের বোমা ফাটে। এ ক্ষেত্রে হয়তো সেটা হয়নি।"
নৌ ও সেনা বাহিনীর তরফে পরীক্ষা করে বলা হয়েছে, বোমাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের। কারণ এই সময় মার্কিন নৌবাহিনী হুগলি নদীর নেতাজি সুভাষ ডক নিজেদের কাজে ব্যবহার করত। তাই সেই সময় মার্কিন কোনও যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এই বোমা। কিন্তু কোনও কারণে তা ফাটেনি। এতদিন জলের তলাতেই তা পড়ে ছিল।
নৌবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কিছু করার নেই। এই কাজে বোমা ও অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে পারদর্শী অর্ডিন্যান্স কারখানার সাহায্য নিতে হবে। দরকার পড়লে ভাইজাগ নৌঘাঁটির সঙ্গেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। আপাতত বোমাটিকে সিআইএসএফের হেফাজতে রাখা হয়েছে।