দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের জমিতে প্রোমোটিংয়ে বাধা দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিযোগে এক মহিলা অধ্যাপক তথা কলকাতার প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনারের মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠল হরিদেবপুরে। ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চড়াও হওয়ায় অভিযোগ উঠেছে দুই মহিলার বিরুদ্ধে। তাঁর মাথায় ইঁট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। ইঁটের আঘাতে মাথা ফেটে গেছে ওই মহিলার। এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তারপরেই অভিযোগ দায়ের হয় হরিদেবপুর থানায়। হামলা চালানোর অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মহিলা অধ্যাপকের নাম সেবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের অধ্যাপিকা। সেবন্তীর বাবা কলকাতার প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার শিশির বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা হরিদেবপুরের যদুনাথ উকিল রোডের বাসিন্দা।
সেবন্তীর অভিযোগ, তাঁদের বাড়ি ও জমি রয়েছে সেখানে। তার উপরেই নজর রয়েছে এলাকার এক প্রোমোটারের। তিনি ওই জমিটি কেনার জন্য অনেকবার তাঁদের কাছে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জমি বিক্রি করবেন না। তাঁদের না বলার পরেও বারবার ওই প্রোমোটার তাঁদের উপর চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ সেবন্তীর। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কলকাতা পুলিশকে এই কথা ইমেল করেও জানান। তারপরেই চাপ আরও বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন সেবন্তী।
সূত্রের খবর, গত ১৭ নভেম্বর ফের পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান সেবন্তী। হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরে মামলা শুরু হয়। তারপরে ওই প্রোমোটারের হুমকি আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। বারবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের এলাকা ছাড়ারও হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে অনড় থাকেন তাঁরা। এমনকি মামলা তুলবেন না বলেও তাঁরা জানান।
সেবন্তীর অভিযোগ, বুধবার সন্ধেবেলা বাড়ির বাইরেই কয়েকটি কুকুরকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই তাঁর উপর পিছন থেকে দুই মহিলা হামলা করেন বলে অভিযোগ। দুই মহিলার মধ্যে একজনকে সেবন্তী চিনতেন। দুই মহিলার হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ। তাতে আঘাতও পান তিনি। ঠিক তখনই সেবন্তীর বাবা সেখান দিয়ে আসছিলেন। তিনি চিৎকার করে ওঠায় দুই মহিলা পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর সময় তাঁরা ইঁট ছুড়ে পারেন। সেই ইঁট লাগে সেবন্তীর কপালে।
আঘাত পাওয়ার পরে প্রথমে বাঙ্গুর হাসপাতালে যান সেবন্তী। তারপর বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে যান তিনি। সেখানেই ভর্তি তিনি। এই ঘটনার পরে পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয় হরিদেবপুর থানায়। তারপরেই মোনা মোদক নামে মহিলাকে গ্রেফতার করে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। অন্য অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।