দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার হুইসল। সেই সঙ্গে অভিনব কায়দায় হাত নেড়ে জনতাকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। নতুন জুতোয় পায়ে ফোস্কা। তবু তাঁকে দেখতে দেখতেই দ্রুত গতির পদচারণায় এগিয়ে গেল জনতা। সেই ষষ্ঠী থেকে একেবারে দশমী পর্যন্ত।
কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের কনস্টেবল ইলিয়াস মিঞা। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র হলেও আপাতত তিনি শহর কলকাতার পুলিশ বাহিনীর একজন। পুজোর কটা দিন তাঁর দায়িত্ব পড়েছিল ত্রিধারা সম্মিলনীর মণ্ডপের ভিড় সামলানোর। ভিড় তো সামলালেনই, সেই সঙ্গে তাঁর শরীরী ভাষায় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত মানুষও হাসতে হাসতে চাঙ্গা হয়ে গেলেন। অনেকেই দেখে বললেন, এ যেন ঠিক ক্রিকেট মাঠের আম্পায়ার বিলি বাওডেন! কলকাতায় ইলিয়াস এই প্রথম নয়। এর আগে এমন ভাবে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে দেখা যেত আরো এক কনস্টেবলকে। ২০০০ সালে কলকাতা পুরসভার ভোট গণনার দিন তাঁর ডিউটি পড়েছিল ছোট লালবাড়ি আর গ্র্যান্ড হোটেলের মাঝের রাস্তায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত সেই কনস্টেবল একাই জমিয়ে দিয়েছিলেন সে দিন। তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি হেড কোয়ার্টার রাজ কানোজিয়া। তিনি ডেকে নেন ওই কনস্টেবলকে। দিশি-র সামনে এসে স্যালুট ঠুকতেই তাঁর পকেট থেকে সার্ভিস বুক বের করে অ্যাওয়ার্ড লিখে দেন তিনি। কনস্টেবল ইলিয়াসের জন্য তেমন কোনও পুরস্কার অপেক্ষা করছে কিনা তা কলকাতা পুলিশই জানে।
তবে এ বার পুজোয় যেন নিজেদের অন্য মাত্রায় তুলে ধরল কলকাতা পুলিশ। রাজনৈতিক দলের কয়েক ঘণ্টার বড় সমাবেশ হলেই যেখানে যানজট ছড়ায় শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সেখানে পুজোর কটা দিন রাস্তায় জ্যাম হবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর মধ্যেও সপ্তমীর ভিড়ের মাঝেই গ্রিন করিডোর করে অঙ্গপ্রতিস্থাপনের নজির গড়েছে তিলোত্তমা। অনেকেই বলেছেন, এই প্রবল জনপ্লাবনে গ্রিন করিডোর করা মামুলি ব্যাপার নয়। শহরের মূল রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে দৃষ্টান্ত গড়েছে কলকাতা পুলিশ। এরই মধ্যে ইলিয়াসের ক্লিপিং প্রশংশা কুড়োচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
https://twitter.com/KolkataPolice/status/1053282333820780544