দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার বেলা সাড়ে ৩টে। নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার আবাসনে তখন মুর্হুমুর্হু গুলি চলছে। বি-ব্লকের গোটা বিল্ডিংটা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। পাঁচ তলার বারান্দা থেকে গুলি ছুড়ছে দুই দুষ্কৃতী। পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনীও। বন্দুক হাতে পুলিশ আধিকারিকদের বিল্ডিংয়ের লনে ছুটোছুটি করতেও দেখা গিয়েছে। পাঞ্জাবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার দলের দুই পাণ্ডাকে ধরতে এসটিএফের যে দল অভিযান চালিয়েছিল তার মধ্যেই ছিলেন ইন্সপেকটর কার্তিকমোহন ঘোষ। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে তিনিই জখম হয়েছিলেন। তবে আহত হওয়ার আগে অপরাধীদের লক্ষ্য করে পরপর গুলি ছুড়েছিলেন তিনি। মুখোমুখি লড়ে গিয়েছিলেন শেষ অবধি।
সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে কার্তিকমোহনবাবুর। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, গুলি তাঁর কাঁধ ফুটো করে চলে গেছে। তবে জখম সারছে দ্রুত। এখন শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল তাঁর। তবে গুলি লাগার কারণে শরীরে অন্য কোনও সমস্যা হতে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার একাধিক টেস্ট করা হবে। এমআরআই করা হবে, তাছাড়া নার্ভের পরীক্ষাও হবে।
নদিয়ার করিমপুরের বাসিন্দা কার্তিকমোহন ঘোষ। এসটিএফের বিশেষ অভিযানে বরাবরই সঙ্গী হয়েছেন। সাপুরজি আবাসনেরই একটি ফ্ল্যাটে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে থাকেন কার্তিকমোহনবাবু। আবাসনে যে দুষ্কৃতীরা লুকিয়ে রয়েছে, সে খবর পেয়ে অভিযানের পরিকল্পনা করে এসটিএফ। আততায়ীরা কোন ফ্ল্যাটে রয়েছে, কখন ঘরে থাকছে ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য জুগিয়েছেন তিনিই। বুধবার দুপুরের দিকে আবাসন ঘিরে এনকাউন্টারের পরিকল্পনা করা হলে একেবারে সামনেই ছিলেন ইন্সপেকটর কার্তিকমোহন। দুষ্কৃতীরা যে ফ্ল্যাটে ছিল সেটি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে পুলিশ। এদিকে আবাসনের নীচে বিশাল পুলিশবাহিনী দেখে বারে বারেই বারান্দায় বেরিয়ে এসে গুলি ছুড়ছিল অপরাধীরা। একটি কার্তিকমোহনবাবুর কাঁধ ফুটো করে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার ও তার সঙ্গী যশপ্রীত সিং খাড়ার। ২০১৬ সাল থেকেই ভুল্লারকে খুঁজছিল পুলিশ। এ বছরই মে মাসে পাঞ্জাবে দুই পুলিশকর্মী খুনেও নাম জড়ায় তার। তাছাড়া খুন, জখম, মাদক ব্যবসা সহ ১৫টি মামলা ঝুলছে তার নামে। পাঞ্জাব পুলিশের খুনের ঘটনা নিয়ে খুব হইচই হয়। অপরাধীদের ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছি পুলিশ। একজনের মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা, অন্যজনের ৫ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পাঞ্জাব পুলিশের কাছে খবর ছিল কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনে আস্তানা গেড়েছে দুষ্কৃতীরা। সেই মতো এসটিএফের সঙ্গে কথাবার্তার পরে এনকাউন্টারের পরিকল্পনা করা হয়। পাঞ্জাবে ধরা পড়ার ভয় অপরাধীদের এই দলটা বাংলায় চলে আসে বলে মনে করছে পুলিশ। গোয়েন্দা অফিসারদের ধারণা জয়সিং পারমার নামে এই গ্যাংস্টার দলেরই অন্য এক পাণ্ডা পলাতক। সে বাংলারই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে আছে কিনা সেটা জানা যায়নি। দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৯ রাউন্ড গুলি এবং ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলার নম্বর লেখা একটি গাড়িও তাদের কাছে ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।