পাঞ্জাব থেকে কীভাবে বাংলায় গা ঢাকা দিল দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবে খুন, জখম, মাদক ব্যবসা, একের পর এক গর্হিত অপরাধে জড়িত ছিল দুই গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার ও জসসি খাড়ার। নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার একটি আবাসনে বুধবার দুপুরে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে দুজনেই। পাঞ্জাব প
শেষ আপডেট: 10 June 2021 04:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবে খুন, জখম, মাদক ব্যবসা, একের পর এক গর্হিত অপরাধে জড়িত ছিল দুই গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার ও জসসি খাড়ার। নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার একটি আবাসনে বুধবার দুপুরে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে দুজনেই। পাঞ্জাব পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এই দুই দাগি আসামি বাংলায় কীভাবে গা ঢাকা দিয়ে ছিল সেটাই খোঁজ করছে পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর মিলেছে, পাঞ্জাবের এই গ্যাংস্টার দলের আরও এক পাণ্ডা জয়সিং পারমার। তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ভুল্লারের। এই পারমারের খোঁজ এখনও মেলেনি। সেও কি বাংলারই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে? তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, কলকাতা উপকণ্ঠে নিউটাউন এলাকায় প্রায় এক মাস গা ঢাকা দিয়েছিল ভুল্লার ও তার দলবল। সাপুরজির আবাসনের বি-ব্লকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তারা। ওই আবাসনের মালিক জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটটি সিআইটি এলাকার এক বাসিন্দার। তাঁর এজেন্সি মারফৎ ওই ফ্ল্যাটের সন্ধান পায় গ্যাংস্টাররা। ১১ মাসের চুক্তিতে ভাড়া দেয় তারা। গত ২৩ মে থেকে ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে কোনওরকম পরিচয় না জেনেই ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হল সে ব্যাপারে খোঁজখবর চলছে। ওই ফ্ল্যাটের মালিকের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা অফিসাররা বলছেন, যে দুই দুষ্কৃতী নিহত হয়েছে পাঞ্জাবে তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। একজনের মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা, অন্যজনের ৫ লক্ষ টাকা। পাঞ্জাবে ধরা পড়ার ভয় অপরাধীদের এই দলটা বাংলায় চলে আসে বলে মনে করছে পুলিশ। এদের মূল পাণ্ডা জয়সিং পারমার এখনও ফেরার। তার নির্দেশেই প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিউটাউন এলাকায় এসে ওঠে ভুল্লার ও তার সঙ্গী।
আবাসনের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এত বড় আবাসনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বন্ধ থাকে। মালিকরা অন্য জায়গায় থাকেন। বেশিরভাগ সময়ে ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া বসিয়ে যান। এজেন্সি মারফৎ ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয়। এভাবেই হয়ত সাপুরজি আবাসনের ফ্ল্যাটের হদিশ পায় গ্যাংস্টাররা। এজেন্সিকে একমাসের ২০ হাজার টাকা ভাড়া দেয় তারা, আর ১১ মাসের চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে ফ্ল্যাট নেয় আবাসনে। পুলিশ জানাচ্ছে, ভরত কুমার নামে পাঞ্জাবের আরও এক অপরাধীর সাহায্যে বাংলার নম্বর দেওয়া গাড়িও জুটিয়ে নেয় ভুল্লার ও তার সঙ্গী। এই ভরত কুমারকে গ্রেফতার করেছে লুধিয়ানা পুলিশ। তবে কলকাতার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাঞ্জাব থেকে পালিয়ে দুই গ্যাংস্টার যে নিউটাউনে গা ডাকা দিয়েছে এমন খবর পেয়েই গতকাল আবাসন ঘিরে ফেলে পুলিশ। তারপর টানটান উত্তেজনায় ঘণ্টাখানেকের অপারেশন চলে। ফ্ল্যাটে ঢুকে পরপর গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় দুই অপরাধীকে। গুলির লড়াইয়ে এসটিএফের এক আধিকারিকও জখম হয়েছেন। দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৯ রাউন্ড গুলি এবং ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।