দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সাত সকালেই হইহই রব উঠল কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এক করোনা আক্রান্ত রোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকে। এই ব্লকের চার তলার ছ’নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার ৫৬ বছর বয়সী এক বাসিন্দা। কয়েক দিন আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি আরও কয়েকজন করোনা আক্রান্তকে ওই ব্যক্তি মারধর করেন বলে অভিযোগ। তারপর থেকে অবশ্য সব ঠিকই ছিল। শনিবার সকালে দেখা যায় ওই ওয়ার্ডের একটি জানলার কাঁচ ভেঙে তার উপর বসেছিলেন ওই রোগী। ওই ব্যক্তিকে এভাবে বসে থাকতে দেখেন গ্রুপ ডি কর্মচারীরা। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে জানলার উপর থেকে নামিয়ে আনেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ওই ব্যক্তি জানলার কাঁচ ভেঙেছেন বলে খবর।
জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ওই ব্যক্তি। প্রাথমিক অনুমান আত্মহত্যা করার জন্যই জানলার কাঁচ ভেঙে তার উপর বসেছিলেন ওই ব্যক্তি। করোনা আক্রান্ত হওয়াতেই মানসিক অবসাদে ভুগছেন তিনি। আর তাই ওই কাজ তিনি করতে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক অনুমান। যদিও এর বাইরে মেডিক্যাল কলেজের তরফে আর কিছু জানানো হয়নি।
রাজ্যে করোনা চিকিৎসার অন্যতম প্রধান হাসপাতাল করে তোলা হয়েছে এই মেডিক্যাল কলেজকে। এখানকার সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লককে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছে, মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের কাছ থেকে মোবাইল, এমনকি গয়না চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি পিপিই কিট পরে এক মহিলা রোগীর গয়না চুরি করতে গিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই সেখানকারই গ্রুপ ডি কর্মী বলে জানা গিয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা অনেক কড়া করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে কর্মীদের। আর তাই চারদিকে নজর বেশি রাখা হচ্ছে। ফলে ওই করোনা আক্রান্ত রোগীকে ঠিক সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। নইলে বড় বিপদ হতে পারত বলে মনে করছেন তাঁরা।