দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহিদ মিনারে সভা করার জন্য কলকাতায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সভা ছাড়াও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। আর অমিত শাহের এই কর্মসূচির আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার রাজপথ। রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন বাম-কংগ্রেস কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখান বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও। আর এই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে ধর্মতলায়।
রবিবার সকাল থেকেই শহিদ মিনারে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। আসতে শুরু করেছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। আর তার মধ্যে শহরের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধীরা। বিক্ষোভ শুরু হয় ধর্মতলা চত্বরেও। এই পরিস্থিতিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য মোতায়েন ছিল প্রচুর পুলিশ। ছিল ব্যারিকেড। কিন্তু বেলা গড়াতেই বিক্ষোভকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ।
এখনও উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ধর্মতলার পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিজেপির সঙ্গে গোপনে সেটিং করে নিয়েছে। তাই অমিত শাহের সভা ঘিরে এত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিল্লির সংঘর্ষ, নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, এনপিআর নিয়েই তো বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বাম-কংগ্রেস ও ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদেরই আটকাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। অথচ অন্যদিকে মমতা নিজেও বিজেপির এই নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, এনপিআর-এর বিরোধিতা করছেন। তৃণমূলনেত্রীর এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন বলেই অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন শাহ। তিনি পা রাখার আগে থেকেই বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেটের কাছে তৈরি ছিলেন বাম-কংরেস কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নামতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। গো ব্যাক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর। তবে বিক্ষোভ যে হতে পারে তা আগে থেকেই আঁচ করেছিলেন পুলিশকর্মীরা। তাই অমিত শাহকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার মধ্যে অন্য গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুধু বিমানবন্দর নয়, যাদবপুর, সন্তোষপুর, এন্টালি, কৈখালি, পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজার প্রভৃতি জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছেন বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘দিল্লি হিংসার নায়ক অমিত শাহ গো ব্যাক’, কিংবা ‘এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, আরএসএস, বিজেপি মানছি না, গো ব্যাক অমিত শাহ’। সেইসঙ্গে চলছে স্লোগান। যাদবপুর ও সন্তোষপুরে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন যাদবপুরের বিধায়ক তথা বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “বিজেপির সঙ্গে সেটিং করেছে তৃণমূল। তাই অমিত শাহের সভাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই মুখে বললেও তৃণমূলের কোনও বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে না। এর থেকেই সবটা পরিষ্কার। কিন্তু আমরা বিক্ষোভ দেখাব। অমিত শাহকে কলকাতা ছেড়ে যেতেই হবে।” তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই গোপন আঁতাতের ব্যাপারে কিন্তু আগেই মুখ খুলেছেন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

জানা গিয়েছে, অমিত শাহের এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে কলকাতার মোট ১০০টি জায়গায় বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে বাম-কংগ্রেসের। বিক্ষোভ দেখাচ্ছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআইও।
এই পরিস্থিতিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে শহিদ মিনার চত্বরে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন, “বাম-কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই এই রাজ্যে। তাই এইসব বিক্ষোভ দেখিয়ে কিছু হবে না। আমরা আমাদের কার্যকর্তাদের বলেছি, কোনও রকমের প্ররোচনায় পা দেবেন না। তবে যদি কেউ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে তাহলে সেই প্রতিরোধ ভেঙেই আমাদের কর্মীরা শহিদ মিনারে আসবেন।”