দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সিন্ডিকেট নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউটাউন। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকা। চলল গুলি। বাইকে লাগিয়ে দেওয়া হল আগুন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও এলাকা থমথমে রয়েছে। দু'পক্ষই এই ঘটনায় একে অন্যের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতের। নিউটাউনের যাত্রাগাছি মোড়ের কাছে একটি বিল্ডিং তৈরির কাজ চলছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিল্ডিংয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিয়ে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। বিজেপি কর্মীরা নাকি আগেও ওই বিল্ডিংয়ের মালিককে হুমকি দিয়েছিল সব সামগ্রী তাদের কাছ থেকেই কিনতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৩০-৩৫ জন বিজেপি কর্মী সেখানে এসে গণ্ডগোল পাকায়।
তৃণমূলের অভিযোগ, সেখানে এসে ওই বিল্ডিংয়ের দখল নিতে গেলে তৃণমূল ও বিজেপি দু'দলের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই বচসা থেকেই হাতাহাতি ও ক্রমে তা সংঘর্ষের চেহারা নেয়। এই সময় নাকি বিজেপি কর্মীরা বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে নাকি তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সেখানে এসে উপস্থিত হয় পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ছ'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত আছে সেই ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে তারা।
এই ঘটনায় উঠে আসছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমানে বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্তের নাম। তৃণমূলের অভিযোগ সব্যসাচীর নির্দেশেই এই হামলা চালিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই এলাকায় আগে এককভাবে সিন্ডিকেট চালাত তৃণমূল। কিন্তু সব্যসাচী দত্তের নেতৃত্বে বিজেপি সেই কাজ বাধা দিচ্ছে। ফলে মরিয়া হয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে তৃণমূল। তারপর বিজেপির বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হচ্ছে।
রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আফতাবউদ্দিনের অভিযোগ, "সবটাই সব্যসাচী দত্তের নির্দেশেই হয়েছে। তিনিই কর্মীদের উস্কানি দিচ্ছেন সিন্ডিকেট দখলের জন্য।" এই অভিযোগের জবাবে সব্যসাচী জানিয়েছেন, "সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। সিন্ডিকেট তৃণমূল কংগ্রেস করে। বিজেপি কর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় হামলা চালানো হয়েছে।"