
শেষ আপডেট: 24 January 2021 04:44
গত বছর অগস্টে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় নাভালনিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর উপরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অন্তর্বাসের মধ্যে বিষ ঢুকিয়ে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে সম্প্রতি অভিযোগও তুলেছিলেন নাভালনি। ফেডেরাল সিকিউরিটি সার্ভিস-এর বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনার পরেই রুশ প্রশাসন জানিয়েছিল, দেশে ফিরলেই গ্রেফতার করা হবে নাভালনিকে। সেই হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করেই গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে রাশিয়া ফেরেন নাভালনি। মস্কো বিমানবন্দরে পা রাখতেই তাঁকে গ্রেফতার করে রুশ পুলিশ। তার পর থেকে জেলেই রয়েছেন ক্রেমলিন বিরোধী নেতা। তাঁর মুক্তির দাবি খারিজ করে দেয় পুতিন সরকার। এর পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নাভালনির সমর্থকরা।
মস্কোর পুস্কিন স্কোয়ারে বিক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থা মারফৎ যেসব ছবি সামনে এসেছে তাতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের লাঠি দিয়ে মারধর করছে পুলিশ। টেনেহিঁচড়ে বিক্ষোভকারীদের গাড়িতে তুলতেও দেখা গেছে। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে। সাইবেরিয়ার ইয়াকুতস্ক শহরে বিক্ষোভকারীদের হাত ও পা ধরে টানতে টানতে গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে পুলিশকে। সাইবেরিয়ার তাপমাত্রা এখন মাইনাস ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই হাড়হিম ঠান্ডাতেও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শয়ে শয়ে মানুষ। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহর ভ্লাদিভস্তকও বিক্ষোভে উত্তাল।
সূত্রের খবর, মস্কো থেকেই ১২০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়াও। বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁকেও টানটে টানতে ভ্যানে তোলে। এখনও অবধি রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর থেকে প্রবীণ, পুলিশ রেয়াত করেনি কাউকে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ায় এমন বিক্ষোভ নজিরবিহীন। গত দশ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা প্রায় ভেঙে পড়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বিঘ্নিত।
গত বছর অগস্টে সাইবেরিয়া থেকে মস্কো যাওয়ার পথে বিমানেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নাভালনি। প্রথমে রাশিয়ার ওমস্ক শহরের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে বার্লিনে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল তাঁকে। সাইবেরিয়ার তোমাস্ক শহরের যে হোটেলে তিনি উঠেছিলেন সেখানেই তাঁর শরীরে বিষপ্রয়োগের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাভালনির সমর্থকরা। নাভালনির ঘর থেকে একটি ফাঁকা মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেছে যার মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের খোঁজ মিলেছিল বলেও দাবি করা হয়। নাভালনির ঘর থেকে ‘হোলি স্প্রিং’ নামে একটি ফাঁকা মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেছে যার ফরেন্সিক পরীক্ষা করিয়ে বিষের প্রমাণ মিলেছে।
পুতিনের সমালোচক নাভালনির অভিযোগ ছিল, ফেডেরাল সিকিউরিটি সার্ভিসের রায়াসনিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞকে এ ব্যাপারে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই বিশেষজ্ঞই নাকি বিষপ্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেছেন নাভালনি। যদিও ক্রেমলিন বিরোধী নেতার অভিযোগকে মিথ্যা বলেই দাবি করেছে ফেডেরাল সিকিউরিটি সার্ভিস। তাদের বক্তব্য, সংস্থাকে বদনাম করার জন্যই মনগড়া গল্প বানিয়েছেন নাভালনি। তবে ক্রেমলিন বিরোধী নেতার দাবি, তিনি ঠিক পথেই চলছেন। ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না।