দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলম্বোর ধারাবাহিক বিস্ফোরণে যে ভারতের যোগ রয়েছে এ ব্যাপারে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা প্রশাসন।সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান এক বিদেশী সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "আমাদের দেশে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে সন্ত্রাসবাদীরা সম্ভবত ভারতের কাশ্মীরে অথবা কেরলে গিয়েছিল। সেখান থেকেই তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে।"
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই উঠে পড়ে লেগেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (Indian intelligence agencies)। শ্রীলঙ্কা থেকে গত কয়েক মাসে যে সব পর্যটক ভারতে এসেছেন, বিশেষ করে কেরল বা কাশ্মীরে এসেছেন তাঁদের যাবতীয় তথ্য যাচাই করে দেখছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯-এর প্রথম চার মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কাশ্মীরে এসেছেন প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মালয়েশিয়ার বাসিন্দা। তারপরেই রয়েছেন তাইল্যান্ডের বাসিন্দারা। মাত্র ২০ জন পর্যটক শ্রীলঙ্কা থেকে এই চারমাসে কাশ্মীরে এসেছেন। গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে এই কুড়ি জনের যাবতীয় তথ্য অত্যন্ত খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়েকে জানান, বিস্ফোরণের কিছুদিন আগে কলম্বো বিস্ফোরণে জঙ্গিরা ভারতে গিয়েছিল। তাঁর অনুমান, সম্ভবত বেঙ্গালুরু, কেরল এবং কাশ্মীরেই প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিল এই জঙ্গিরা। এ দিকে জানা গিয়েছে ন্যাশনাল তৌহিত জামাতের নেতা মৌলবি জাহরান বিন হাশিম ভারতে এসেছিল। কিন্তু এ দেশে এসে কাদের সঙ্গে সে দেখা করেছিল আপাতত সেই বিষয়েই তদন্ত চালাচ্ছেন এনআইএ। ইতিমধ্যেই এনআইএ তামিলনাড়ু ও কেরলের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়েছে। আইসিস জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে সত্যিই ইস্টার সানডে'র বিস্ফোরণে যুক্ত জঙ্গিদের কেউ এ দেশে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিল কিনা সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধানের বক্তব্য আপাতত যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডে'র দিন পরপর আটটি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। তিনটি পাঁচতারা হোটেল 'কিংসবেরি', 'সিনামন গ্র্যান্ড' এবং 'সাংগ্রি লা' ছাড়াও তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল কলম্বোর তিনটি গির্জা। তার মধ্যে ছিল শতাব্দী প্রাচীন ক্যাথলিক চার্চ 'সেন্ট সেবাস্টিয়ান'। ইস্টার সানডে'র প্রার্থনা চলাকালীনই এই বিস্ফোরণ ঘটে। নিহত হন ৩৫৯ জন। আহতের সংখ্যা ৫০০-র বেশি। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয় এই হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিত জামাত (এনটিজে)। জানা যায়, এটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইসিস-এর শাখা সংগঠন। পরে অবশ্য হামলার দায় স্বীকার করে আইসিস। প্রায় ৫ বছর পর প্রকাশ্যে এসে আইসিস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি জানায়, ভাইদের (নিহত আইসিস সদস্য) মৃত্যুর বদলা নিতেই এই হামলা হয়েছে।