দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছিল, বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যা মামলার শুনানি শুরু হবে জানুয়ারির চার তারিখ থেকে। এখনও চব্বিশ ঘণ্টা কাটেনি। এর মধ্যেই ‘অভি করো, জলদি করো’ আওয়াজ তুলতে শুরু করে দিলেন বিজেপি নেতারা। বড়দিনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এ ব্যাপারে সুর চড়ালেন।
মঙ্গলবার রবিশঙ্কর বলেন, “আমি আমার সাধ্যমতো সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করব, যাতে অয্যোধ্যার রামজন্মভূমি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।” শুধু তো তাই নয়। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী শবরীমালার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “কেরলের ওই মন্দিরের মামলার রায় দিতে যদি সুপ্রিম কোর্টের এত সময় না লাগে, তাহলে অয্যোধ্যা নিয়ে ৭০ বছর সময় লাগছে কেন?” এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা। বলেন, “আমরা কেন বাবরের পুজো করতে যাব?”
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, অয্যোধ্যার বিতর্কিত জমিকে তিন ভাগে ভাগ করার। একভাগ রামলালা, একভাগ নির্মোহী আখড়া ও একভাগ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে । তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক সংগঠন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন জানায়। গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, জানুয়ারিতে নতুন বেঞ্চ গঠন করে শুনানি শুরু হবে অযোধ্যা মামলার। শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন নিয়ে ফের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি সঞ্জয় কলের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আদালতের কাছে সব মামলাই গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে একটা মামলাকে এগিয়ে আনা সম্ভব নয়।”
অনেকের মতে, রবিশঙ্কর প্রসাদের মন্তব্যের মধ্যে রয়েছে আগ্রাসী হিন্দুত্ব। তিন রাজ্যে ভোটে হেরে চাপে বিজেপি। ইতিমধ্যেই অযোধ্যায় ধর্মসভা করে রামমন্দির নির্মাণ না হওয়ার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি-র ‘বন্ধু সংগঠন’ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। খোলাখুলি আক্রমণ শানিয়েছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চাপে পড়েই বিজেপি নেতারা এই মেরুকরণের রাজনীতিকে তীব্র করতে চাইছেন। আইনজ্ঞদের অনেকের মতে, জানুয়ারির ৪ তারিখে মামলা শুরু হলেও, লোকসভার আগে রায় বেরনো মুশকিল। আর বিজেপি চাইছে ভোটের অযোধ্যা মামলা মিটে যাক। রাজনৈতিক মহলের মতে, রবিশঙ্কর প্রসাদের এই মন্তব্যে পরিষ্কার বিজেপি হিন্দুত্বের জিগিরকেই ভোট পর্যন্ত জিইয়ে রাখতে চাইছে। না হলে এমন কথা কোনও দেশের আইনমন্ত্রী বলতে পারেন!