দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হল সেখানকার ব্যাকওয়াটার এলাকায় থাকা হাউসবোট। জলের উপর ভাসমান সুদৃশ্য এই হাউসবোটই এবার পরিণত হতে চলেছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনের রাখার জন্য বন্দোবস্ত করা হচ্ছে এইসব হাউসবোটেই। কেরলের পিডব্লুডি বিভাগের মন্ত্রী জি সুধাকরন জানিয়েছেন, এই হাউসবোটগুলোয় অন্তত ২০০০ আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির চেষ্টায় রয়েছে প্রশাসন।
ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই ত্রাস ছড়িয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। বাদ যায়নি দক্ষিণের এই রাজ্যও। তবে প্রাথমিক ভাবে কেরলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও ক্রমশ সংক্রমণ রুখতে সক্ষম হয়েছে কেরল। আক্রান্ত এবং মৃতের ক্রমশ কমেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে এখনও পর্যন্ত কেরলে কোভিড-১৯ আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩৮৭। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২১১ জন।
রাজ্যের সকল করোনা আক্রান্তই যাতে সংক্রমণ মুক্ত হতে পারেন সেজন্যই নতুন করে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির চিন্তাভাবনা করেছেন সেখানকার বাম সরকার। আর তার জন্যই বেছে নেওয়া হয়েছে হাউসবোটগুলিকে। ইতিমধ্যেই আলাপুঝা জেলার ৭০০ লাইসেন্স প্রাপ্ত হাউসবোটের মালিক তাঁদের বোটগুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির জন্য রাজি হয়েছে। অল কেরল হাউসবোট ওনার্স অ্যান্ড অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি কেভিন রোজারিও জানিয়েছেন, “আমরা খুব খুশি এই কাজে যুক্ত হতে পেরে। এমনিতেও গত দু’মাস ধরে কেরলে পর্যটকের আনাগোনা নেই। ফলে ব্যবসাতেও মন্দা রয়েছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যেও পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুব ভাল হওয়ার আশা দেখছি না।“
তবে এর পাশাপাশি রোজারিও এও বলেছেন, “আমাদের বোট যদি কাজে লাগে তাহলে আমাদের গর্ব হবে। মনে করব বিশ্ববাসী যে কঠিন লড়াইয়ে নেমেছে আমরা তাঁর শরিক হলাম। এটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই সবরকম সাহায্য করতে আমরা তৈরি।“ রোজারিও আরও বলেছেন, যেহেতু এক একটা হাউসবোটে প্রায় সমস্ত সুযোগ-সুবিধাই থাকি তাই খুব সহজেই এগুলোকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিণত করা যাবে। এছাড়াও প্রয়োজনে এই আইসোলেশন ওয়ার্ডে অন্যত্র স্থানান্তরও করা সম্ভব। ঠিক যেমনটা রেলের কোচে তৈরি আইসোলেশন ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও সম্ভব।