করোনা মোকাবিলায় ট্রেনের বগিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি, কাজ শুরু করবে শিগগির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনের কামরাতে তৈরি হয়ে গিয়েছে আইসোলেশনে ওয়ার্ড। করোনা মোকাবিলায় তিন সপ্তাহের জন্য সারা দেশে চলছে লকডাউন। সংক্রমণ রুখতে তৎপর প্রশাসন। স্থল-জল-আকাশ সব ক্ষেত্রেই বন্ধ যানবাহন পরিষেবা। পণ্যবাহী ট্রেন ছাড়া বন্ধ রয়েছে রেল পরিষে
শেষ আপডেট: 28 March 2020 07:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনের কামরাতে তৈরি হয়ে গিয়েছে আইসোলেশনে ওয়ার্ড। করোনা মোকাবিলায় তিন সপ্তাহের জন্য সারা দেশে চলছে লকডাউন। সংক্রমণ রুখতে তৎপর প্রশাসন। স্থল-জল-আকাশ সব ক্ষেত্রেই বন্ধ যানবাহন পরিষেবা। পণ্যবাহী ট্রেন ছাড়া বন্ধ রয়েছে রেল পরিষেবাও। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনের বগিকে আইসোলেশনে ওয়ার্ড, আইসিইউ কেবিন বানিয়ে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কথা আগেই ভেবেছিল মোদী সরকার। সেই মত কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবার ট্রেনের কোচে তৈরিও হয়ে গিয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গোটা দেশে আরও দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা এমনিতেই রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সতর্ক করে রেখেছে সরকারকে। আর সেই কারণেই সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে ক্যাবিনেট সচিব বলেছেন, আরও কিছু হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য তৈরি রাখতে। এই অবস্থায় গ্রামীণ এলাকায় যেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই, সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে প্রয়োজনে রেল কোচকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কারণ গোটা দেশেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখনও সুদৃঢ় নয়। তা ছাড়া হাসপাতাল থাকলেও সেখানে আইসিইউ-র সংখ্যা কম। আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানোর পরিকাঠামো অপ্রতুল। তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
https://twitter.com/ANI/status/1243778304638775297
ট্রেনের বগিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির পাশাপাশি চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও করতে চায় রেল। কোন জায়গায় সেই সব রেল কোচ রাখা হবে, তার বিদ্যুৎ সরাবরাহ কীভাবে হবে ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগ নিচ্ছে পশ্চিম রেল। ইতিমধ্যেই কোন কোন জোনের কোন কোন স্টেশনে কোয়ারেন্টাইন কোচ রাখা হবে তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে খবর। প্রয়োজনে শহর থেকে দূর এলাকাতেও এই সব কোচ পাঠানো যাবে। রেলের যে সব প্যান্ট্রি কার রয়েছে সেগুলিকে মোবাইল কিচেন বানানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ওই সব প্যান্ট্রি কার যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও খাবার সরবরাহ করবে প্যান্ট্রি কার। বিভিন্ন স্টেশনে থাকা কোয়ারেন্টাইন কোচে খাবার পাঠানো হবে মোবাইল কিচেনের মাধ্যমে।

এখনও পর্যন্ত যা ভাবা হয়েছে তাতে ট্রেনের একটি কোচে ন’জন করে থাকতে পারবে। প্রতি কোচে ন’টি লবি থাকে। প্রতিটি লবিতে ছ’টি করে বার্থ থাকে। এই এক একটি লবি হবে একটি করে থাকার জায়গা। এই হিসেবে একটি কোচে ন’জন আইসোলেশনে থাকতে পারবেন। এখনও পর্যন্ত যা পরিকল্পনা তাতে ২০ হাজার কোচকে এই ভাবে কোয়ারেন্টাইন হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।

জানা গিয়েছে, কোচিতে স্থিত একটি সংস্থা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে সবিস্তার একটি প্ল্যান দিয়েছে। দেশে এখন ১২,৬১৭টি দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। যেগুলিতে ২৩ থেকে ৩০টি কোচ রয়েছে। ওই সংস্থার হিসাবে প্রতিটি ট্রেনকে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট মোবাইল হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ফেলা সম্ভব। দেশে সাড়ে সাত হাজার প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কাউকে আইসোলেশনে রাখতে হলে সরাসরি ওই ট্রেন-হাসপাতালেই অ্যাডমিট করা যেতে পারে।