দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয়পুর সাহিত্য উৎসবে গিয়ে কেঁদে ভাসালেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। পরিবেশ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অভিনেত্রী এতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে ক্যামেরার সামনেও বাঁধ মানেনি চোখের জল। এমনকি পাশ থেকে টিস্যু পেপার এগিয়ে দেওয়া হলে সেটাও নিতে অস্বীকার করেন দিয়া। তবে প্রকাশ্যে এমন কান্নাকাটির জন্য চরম ট্রোলের স্বীকার হয়েছেন অভিনেত্রী। 'সস্তার গ্রেটা থুনবার্গ' বলেও দিয়া মির্জাকে তকমা দিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।
https://twitter.com/i/status/1221951913752760327
'ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি' নিয়ে আলোচনা চলছিল জয়পুর সাহিত্য উৎসবে। প্রশ্ন-উত্তরের মাঝে আচমকাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দিয়া। অভিনেত্রী বলেন, "সহমর্মিতা দেখাতে কখনও পিছপা হবেন না। চোখের জল সামনে আনতেও ভয় পাবেন না। বরং এই কান্নাকে অনুভব করুন। সবকিছুকেই গভীর ভাবে সবটুকু দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা দরকার। এটাই আমাদের পক্ষে ভাল। কারণ এভাবে বুঝতে শিখলেই আমরা শক্তি পাবো।" নিজের এই বক্তব্যের মাঝেই কেঁদে ফেলেন দিয়া। সেই সঙ্গে অভিনেত্রী এও জানান যে তিনি নাটক করছেন না।
https://twitter.com/soniabhatnagar6/status/1222025682709929984
কিন্তু অভিনেত্রী যতই বলুন যে তিনি অভিনয় করেননি, বরং অন্তর থেকে পরিবেশের সমস্যা বুঝতে গিয়েই কেঁদে ফেলেছেন, তাতে নেটিজেনদের ট্রোল বন্ধ হয়নি। বরং টুইটার থ্রেডে দিয়া মির্জার কান্নাকাটি নিয়ে ঘুরছে নানা মন্তব্য। কেউ বলছেন, "নিজের দামি এসইউভি চড়ে ঘোরার সময় নিশ্চয় দিয়ার পরিবেশ সম্পর্কে এত আবেগ থাকে না।" কেউ বা সরাসরি "সস্তার গ্রেটা থুনবার্গ" বলেও আক্রমণ করেছেন অভিনেত্রীকে। কেউ কেউ আবার গ্রেটা এবং দিয়ার ছবি শেয়ার করে বলেছেন, "বিচার করুন কে বেশি ভাল অভিনেত্রী।"
https://twitter.com/desi_brat/status/1222010865240530944
এখানেই শেষ নয়। অভিনেত্রী টিস্যু পেপার নিতে না চাওয়ায় এক টুইটারিয়ান মন্তব্য করেছেন, "দিয়া ভাল ভাবেই জানেন ভুয়ো চোখের জল মোছার জন্য টিস্যুর দরকার নেই।" অনেকেই আবার বলেছেন, "বিনা গ্লিসারিনে চমৎকার অডিশন দিয়েছেন দিয়া। এবার অন্তত একটা রোল পাওয়া উচিত।" দেশি গ্রেটা থুনবার্গ বলেও অভিনেত্রীকে আক্রমণ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ।
https://twitter.com/IndusEyes/status/1222007842070118400
তবে দিয়া কেন এত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজেই। দিয়ার কথায়, তাঁর দিন শুরু হয়েছিল খুব সুন্দর ভাবে। কিন্তু আচমকাই বাস্কেটবল প্লেয়ার কোবে ব্রায়ান্টের মৃত্যুর খবর পান। কিশোরী মেয়ের সঙ্গে হেলিকপ্টার ক্র্যাশে মৃত্যু হয়েছে এই বিখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের। দিয়া জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই ব্রায়ান্টকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করতেন তিনি। ছিলেন একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত। তাই কোবে ব্রায়ান্টের এমন আকস্মিক মারা যাওয়ার খবরে মানসিক ভাবে বেশ খানিকটা বিপর্যস্ত ছিলেন। তারপরেই সাহিত্য উৎসবে জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার সময় আবেগতাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
https://twitter.com/RakeshProNaMo/status/1222053691806453760