দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপিকা পাড়ুকোন জেএনইউ-তে গিয়েছেন ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। তবে নেট দুনিয়ায় চলছে লড়াই। শুধুই প্রচার পাওয়ার জন্য জেএনইউ-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন দীপিকা, এমনটাই মত নেটিজেনদের একাংশের। ঠিক একই দাবি করেছেন কঙ্গনা রানাওয়াতের দিদি রঙ্গোলি চান্দেলও।
https://twitter.com/Rangoli_A/status/1214805551667769344
https://twitter.com/Rangoli_A/status/1214807158732156928
তবে নেটিজেনদের আর এক দলের কথায়, দেশের একজন সুস্থ-স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে উচিত কাজ করেছেন দীপিকা। টুইটারে দু'ভাগ হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা। সমর্থনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে সমালোচনাও। সেই সঙ্গে নেটিজেনদের একাংশের দাবি হু হু করে বাতিল হচ্ছে 'ছপক'-এর টিকিট। ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখবেন বলে যাঁরা আগেভাগে টিকিট কেটেছিলেন তাঁদের অনেকেই এখন বাতিল করে দিচ্ছেন সিনেমা দেখার প্ল্যান। উদ্দেশ্য একটাই যেনতেনপ্রকারেণ দীপিকার আসন্ন ছবিকে বয়কট করতেই হবে। কারণ এই একাংশের মতে দীপিকার জেএনইউ-তে যাওয়াটা শুধুই 'ছপক'-এর প্রচারের জন্য।
কিন্তু এই ঘটনা নিয়েও রয়েছে দ্বিমত। কারণ টিকিট বাতিলের সব ছবিতেই দেখা গিয়েছে সিনেমার শোয়ের টাইম, টিকিটের দাম, সিনেমা হলের লোকেশন সবই অদ্ভুত ভাবে মিলে গিয়েছে। একটু খুঁটিয়ে দেখলে গোটা ব্যাপারটা পুরোটাই মিথ্যে মনে হতে পারে। তাই টিকিট বাতিলের স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি এই একই স্ক্রিনশট নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোলও। সেখানে অনেকেরই দাবি, যে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো অতটাও সহজ নয়। সব তথ্যই এক, সবই মিলে যাচ্ছে, এই ব্যাপারটাই আসলে বেমানান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির জওহরলাল ইউনিভার্সিটির সবরমতী হস্টেলে পৌঁছে গিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। দেখা করেছিলেন জেএনইউ-এর ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের সঙ্গে। সেসময় পাশেই বক্তব্য রাখছিলেন কানহাইয়া কুমার। তারপরেই বক্তব্য রাখেন ঐশীও। পুরো সময়টা একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিলেন দীপিকা। একটাও কথা বলেননি মিডিয়ার সঙ্গে। কিন্তু তাঁর চোখের দৃপ্ত ভাষা সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে যে রবিবারের হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছেন তিনি।

কিন্তু দীপিকার জেএনইউ-তে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে যত গণ্ডগোল। নিমেষেই টুইটারে দু'ভাগ হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা। এক তরফে দাবি দীপিকা যা করেছেন ঠিক করেছেন। একজন সুস্থ নাগরিক হিসেবে এটাই উচিত কাজ। যদিও আর এক দলের দাবি, সবই কেবলমাত্র ফুটেজ খাওয়ার জন্য। দু'দিন পরেই তাঁর ছবি 'ছপক'-এর রিলিজ। তাই আসন্ন ছবির প্রচারের জন্যই এদিন জেএনইউ-তে গিয়েছিলেন তিনি। বিরোধী পক্ষ অবশ্য এখানেই থামেনি। সরাসরি 'ছপক' সিনেমা বয়কটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকাকে নিয়ে সমালচনার ঝড় বইলেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্যই করেননি অভিনেত্রী।
যদিও গোটা ঘটনায় দীপিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একটা বড় অংশ। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর থেকে শুরু করে বিক্রান্ত মাসে, সায়নী গুপ্ত, শাবানা আজমি ও আরও অনেকেই রয়েছেন দীপিকার পাশে। অদ্ভুত ভাবেই কেন্দ্রের ডাকা 'এনআরসি এবং সিএএ'-এর স্বপক্ষের আলোচনায় যোগ দিলেও দীপিকার কাজের প্রশংসা করেছেন অভিনেতা রণবীর শোরে। রবিবার জেএনইউ-তে হওয়া হামলা যে তীব্র নিন্দনীয় সে কথা স্বীকার করেছেন বরুণ ধাওয়ানও। অন্যদিকে অভিনেতা সুনীল শেট্টিও সরব হয়েছে জেএনইউ-তে হামলার ঘটনায়। তিনি বলেছেন, "মুখোশ পরে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা, এটা কোন ধরনের পৌরুষের কাজ?"
তবে এত সব ভালর মধ্যেও নেট দুনিয়ায় জারি রয়েছে লড়াই। ছপক-এর টিকিট কেটেও যাঁরা ক্যানসেল করেছেন তাঁরা গর্বের সঙ্গে সেই স্ক্রিনশট শেয়ার করছেন। পাল্টা অনেকেই আবার বলছেন, "সাধারণত প্রথম দিনে ছবি দেখতে যাই না। তবে দীপিকা ম্যাডামের প্রতি শ্রদ্ধা এখন আরও বেড়ে গিয়েছে। তাই ছপক-এর ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখতেই হবে।" টিকিট বাতিলের স্ক্রিনশটগুলো 'ভুয়ো' বলেও দাবি করেছেন নেটিজেনদেরই একাংশ। তবে এত কিছুর মাঝেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকার জেএনইউ-তে যাওয়া নিয়ে জারি রয়েছে দ্বন্দ্ব। #boycottchhapaak এবং #supportdeepika-র লড়াইয়ে কারা যেতেন সেটাই এখন দেখার।