
শেষ আপডেট: 24 October 2018 07:11
আদি হিব্রু বাইবেলের এই জাল কপিটি এতদিন প্রদর্শিত হচ্ছিল[/caption]
এর পর কেটে যায় অনেক বছর। অর্থের লোভে হিব্রু বাইবেলের জাল কপি আমেরিকার চোরাই বাজারে আসল বলে বিক্রি করে দেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এদিকে আমেরিকায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করে ২০১৭ সালে একটি বাইবেল জাদুঘর চালু করেন একজন খ্রিষ্টান ধনকুবের স্টিভ গ্রিন। তিনি নিলামে কিনে নেন ডেড সি স্ক্রলের নকল ৫টি খণ্ড, আসল ভেবে। এই ৫ টি খণ্ড নিয়ে আদি হিব্রু বাইবেলের মোট ১৬টি খন্ড ছিল ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরের কাছে। সেগুলি নিয়মিত দর্শক এবং গবেষকদের সামনে প্রদর্শিত হতো। কিন্তু আমেরিকার গবেষকদের সন্দেহ হওয়ায়, ১৬টি খণ্ডের মধ্যে ৫টি খণ্ড পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল জার্মানিতে। জার্মানিতে বিস্তর পরীক্ষার পর জার্মানির বাইবেল বিশারদরা ডেড সি স্ক্রলের ৫টি খণ্ডই জাল বলে প্রমাণ করে দেন। ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে ফেলেন।
[caption id="attachment_45087" align="aligncenter" width="960"]
ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘর[/caption]
জাদুঘরটির কিউরেটর জেফ্রি ক্লোহা বলেছেন, তিনি আশা করেননি পান্ডুলিপিগুলি জাল প্রমাণিত হবে। তবে এর থেকে তাঁরা শিক্ষা নিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন বাইবেলের পান্ডুলিপির সত্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে তারা যে গুরুত্ব দেন এটা মানুষ বুঝতে পেরেছেন। তবে জেফ্রি যাই বলুন বাইবেল জাদুঘরটির মালিক স্টিভ গ্রিনের খুব একটা সুনাম নেই পুরাতত্ত্বের বাজারে। স্টিভ গ্রিনের কোম্পানি "হবি লবি"র বিরুদ্ধে ইরাক থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চোরাচালানের অভিযোগ ওঠে ২০১৭ সালে। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ওই কোম্পানিকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হয়। তাই স্টিভ গ্রিনের বাইবেল জাদুঘরে জাল বাইবেল দেখে গবেষকরা চমকালেও সাধারণ মানুষ আর অবাক হচ্ছেন না।