সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছিল তার মা-বাবা ও দিদা। অভিযোগ, রিঙ্কি খাতুন নামের এক যুবতী মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে তাদের সঙ্গে মিশে যায়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 October 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা-বাবার চোখের সামনে থেকে চুরি গিয়েছিল ১৮ দিনের এক শিশুপুত্র। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের (Burdwan Medical College) আউটডোর থেকে নবজাতকে নিয়ে চম্পট দেয় এক যুবতী। আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েন সদ্যোজাতের পরিবার (Newborn Baby)। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর পুলিশ উদ্ধার করে শিশুকে, ফেরত আসে সেই অনাবিল স্বস্তি। মঙ্গলবার গভীর রাতেই শিশুকে তুলে দেওয়া হয় তার বাবা-মায়ের হাতে।
পুলিশি তৎপরতায় ধরা পড়েছে দুই মহিলা- যুবতী রিঙ্কি খাতুন ও তার মা মিনিরা বিবি। বর্ধমান থানার পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ, শিশুবিক্রির উদ্দেশ্যে অপহরণ-সহ একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে।
কীভাবে ঘটল চুরি?
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছিল তার মা-বাবা ও দিদা। অভিযোগ, রিঙ্কি খাতুন নামের এক যুবতী মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে তাদের সঙ্গে মিশে যায়। এরপরই ফাঁক বুঝে নবজাতকে নিয়ে সোজা উধাও হয়ে যায় সে।
চুরি যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ধমানের খাগড়াগড়ের উত্তরপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে মা মিনিরা বিবিকে নিয়ে থাকত রিঙ্কি। সন্দেহের তীর ঘোরে সেদিকেই। বিকেল ৫টা নাগাদ নবজাতকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশীদের মধ্যে ছিলেন নার্সিং পড়ুয়া নাজমা খাতুন। সদ্যোজাতের শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপরই খবর যায় বর্ধমান থানায়।
পুলিশ এসে শিশুকে উদ্ধার করে ও রিঙ্কি এবং তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে ধৃতরা। স্বীকার করে নেয়, শিশুটিকে মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি করে এনেছিল তারা।
পুলিশ সুপার সায়ক দাস জানান, “প্রাথমিকভাবে অনুমান, শিশুটিকে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয়েছিল। তবে এর পেছনে অন্য কোনও চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ধৃতদের মধ্যে রিঙ্কির বাপেরবাড়ি বর্ধমানের কৃষ্ণপুরে ও শ্বশুরবাড়ি বিজয়রামে। চুরির পর সে সোজা চলে যায় খাগড়াগড়ের উত্তরপাড়ার ভাড়াবাড়িতে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় শিশুটি।
মঙ্গলবার রাতেই শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। সদ্যোজাতকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন তার পরিবার। তবে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে চুরি হল শিশু? প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন তুলছে চিকিৎসা মহল ও সাধারণ মানুষ। তদন্তে উঠে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, মনে করছে পুলিশ।