
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2025 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসে ‘সোহান’ নামের এক প্রবীণ বাঘের মৃত্যুর পর নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের একটি খাঁচা। সেই শূন্যতা এবার পূরণ হল নতুন এক বাঘিনী আসায়। আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝড়খালিতে আনা হয়েছে প্রায় দশ বছর বয়সি এই বাঘিনীকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আসা এই বাঘিনীর শিকড়ও সুন্দরবনেই। কয়েক বছর আগে সুন্দরবনের জঙ্গল থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর আলিপুর চিড়িয়াখানায় ছিল তার ঠিকানা। দীর্ঘদিনের পরিচর্যার পর এবার আবার একপ্রকার ‘ঘরে ফেরা’ হল তার। ফিরে এল সুন্দরবনের কোলেই—ঝড়খালির পরিবেশে।
বর্তমানে ওই বাঘিনীকে আপাতত রাখা হয়েছে একটি ছোট খাঁচায়। চিকিৎসক ও বনকর্মীরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। জানা গিয়েছে, নতুন পরিবেশে সে কেমনভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, স্বাভাবিক আচরণ করছে কি না, খাদ্যগ্রহণে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, অথবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না—এসবই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঘিনীটি এখন স্থিতিশীল ও সুস্থ। যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে বড় খাঁচায় স্থানান্তরিত করা হবে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে বর্তমানে আরও দুটি বাঘ রয়েছে—সোহিনী ও সুন্দর।
নতুন বাঘিনীর আগমনে তাদের সংসার আরও একটি সঙ্গী পেল। তবে এখনই দর্শনার্থীরা নতুন বাঘিনীকে দেখতে পাবেন না। চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই তাকে বড় খাঁচায় রাখা হবে, এবং তবেই দর্শকদের জন্য খাঁচাটি উন্মুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছিল ঝড়খালির বাসিন্দা সোহান নামক এক বয়স্ক বাঘের। সেই মৃত্যুর পর থেকে একটি খাঁচা দীর্ঘদিন খালি পড়ে ছিল। এবার তারই নতুন বাসিন্দা এই বাঘিনী। যদিও তার নাম এখনও স্থির হয়নি, তবে বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরিই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।