
শেষ আপডেট: 31 December 2020 18:30
ওড়িশা, ছত্তীসগড় শুধু নয় বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, হিমাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, মেঘালয়তেও লাল পিঁপড়ের চাটনি উপাদেয় খাবার। আদিবাসীদের এই খাবারকে বিখ্যাত করেছেন ব্রিটিশ রাঁধুনী গর্ডন র্যামসে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে তাঁর বিস্তর গবেষণা। কোন খাবারের কী গুণ, সে নিয়ে চর্চাও করেন র্যামসে। তিনিই আদিবাসীদের এই খাবারকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গিয়েছেন। বস্তারের জঙ্গলে লাল পিঁপড়ের চাটনি খেয়ে সে নিয়ে তথ্যচিত্রও বানিয়েছেন র্যামসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত শাল গাছে লাল রঙের এক বিশেষ পিঁপড়ের প্রজাতি দেখা যায়। গরিব মানুষেরা এই পিঁপড়ে ধরে নুন, লঙ্কা, মশলা মাখিয়ে চাটনি তৈরি করে খায়। অনেক সময় আবার পিঁপড়ে ও ডিম সংগ্রহ করে ঝাল-ঝোলও রান্না করা হয়। এই পিঁপড়ের চাটনির পুষ্টিগুণ অনেক। এতে থাকে ফরমিক অ্যাসিড। প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। তাছাড়া ভিটামিন বি১২, জিঙ্গ, আয়রন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
পোকার পুষ্টিগুণ নিয়ে এমনিতেও সারা বিশ্বে চর্চা হচ্ছে। পোকা খাওয়ার অভ্যাসকে বলে এন্টোমোফ্যাগি। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড-সহ বিশ্বের নানা দেশের খাদ্যাভাসেই পোকা রয়েছে। সমীক্ষা বলছে ৮০ শতাংশ মানুষ ‘এন্টোমোফ্যাগাস’। হাজারেরও বেশি ধরনের পোকা রয়েছে তাদের খাবারের তালিকায়। ‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’ এবং ‘ম্যাডিসন নেলসন ইনস্টিটিউট ফর এনভায়োরনমেন্টাল স্টাডিজ’-এর গবেষকরা বলেছিলেন, কীট-পতঙ্গের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন-সহ নানা পুষ্টিকর উপাদান। পাশাপাশি, এরা শরীরে বাসা বাধা ক্ষতিকর প্যাথোজেন নষ্ট করে, রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, পিঁপড়ে (Ants), ছোট কীট বা পতঙ্গ (Bugs), রেশম মথ (silkworm) এগুলির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস এবং হেলদি ফ্যাট। যে কোনও রকম প্রদাহজনিত রোগ দূর করতে পারে। তবে করোনার থেরাপিতে লাল পিঁপড়ের চাটনি কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের মতামত জানা যায়নি।