সম্প্রতি এক বিস্তৃত সমীক্ষার পর গোটা দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলিকে নতুন করে চিহ্নিত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে BIS। ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কাঠামোর নকশার মানদণ্ড— অর্থাৎ “Earthquake hazard and criteria for earthquake resistant design of structures”— সংক্রান্ত সপ্তম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই রিপোর্ট।

শেষ আপডেট: 3 December 2025 15:50
দেশজুড়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নিয়ে নতুন সমীক্ষায় সামনে এল বিপদের ছবি। কারণ দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং–সহ পূর্ব হিমালয় অঞ্চল ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)।
সম্প্রতি এক বিস্তৃত সমীক্ষার পর গোটা দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলিকে নতুন করে চিহ্নিত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে BIS। ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কাঠামোর নকশার মানদণ্ড— অর্থাৎ “Earthquake hazard and criteria for earthquake resistant design of structures”— সংক্রান্ত সপ্তম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই রিপোর্ট।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পং, সিকিম, এবং বৃহত্তর ক্ষেত্রে কাশ্মীরের একাংশ থেকে অরুণাচলপ্রদেশ হয়ে মায়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের সিংহভাগই এখন অতি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। BIS–এর এই মানচিত্র প্রকাশের পরই পরিবেশবিদ, ভূ-বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, আগের তুলনায় এখন আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠছে পাহাড়ের ভূস্তর। ফলে এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর জন্য অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈজ্ঞানিক নির্মাণ, নদীর মুখ ও প্রবাহপথ আটকে দেওয়া, পাহাড় কেটে সড়ক ও টানেল নির্মাণ,
নদীবাঁধ ও বৃহৎ কাঠামো তৈরিকে দায়ী করেছেন তাঁরা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী বলেন, "ভূমিকম্প সম্পর্কে সাম্প্রতিক রিপোর্ট খুবই উদ্বেগের। দার্জিলিং-সহ গোটা পূর্ব ভারত এখন সিসমিক জোন -৬ এ এসেছে। তাই পাহাড় এখন অনেক বেশি ঝুঁকির হল। ভূমিকম্প আমরা আটকাতে পারব না, কিন্তু প্রাণ ও সম্পত্তিহানির উপায় আমাদের এখনই খুঁজে বার করতে হবে। পুরনো যে কনস্ট্রাকশনগুলি রয়েছে, সেগুলি এখন থেকেই মজবুত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন পরিকাঠামো তৈরির সময়েও ভূমিকম্পের বিপদ মাথায় রাখতে হবে।"
আরেক অধ্যাপক পার্থপ্রতিম রায় জানান, এখনই যদি কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন সজাগ না হয়, ভবিষ্যতে এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর প্রস্তাব, পাহাড়ি অঞ্চলে কঠোর নির্মাণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন দরকার। পাশাপাশি জোর দিতে হবে ব্যাপক সবুজায়ন ও ভূমিক্ষয় রোধে। হটস্পট চিহ্নিত করে জাপানের মতো দেশগুলির উন্নত ভূমিকম্প-প্রতিরোধ প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে পাহাড়কে বাঁচাতে গেলে।" এই চেষ্টা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হবে। যাতে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের বিপদ কাটাতে পারে হিমালয়সংলগ্ন রাজ্যগুলি।