মামলাকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন এসএসসি একাধিকবার নীতিমালা বদল করছে। সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ পিটিশনের পর কমিশন কীভাবে যোগ্য শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দেবে, সে নিয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে (Teachers Recruitment) নতুন নিয়ম ঘিরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর বরাদ্দের (10 Marks Rule) সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন একদল 'যোগ্য' প্রার্থী।
বিশ্বজিৎ বিশ্বাস-সহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী এই মামলায় অংশ নিয়েছেন। তাঁদের পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরীর বক্তব্য, নবম–দশম এবং একাদশ–দ্বাদশ স্তরের শিক্ষকতার অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা যেমন আলাদা, অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও তেমন পার্থক্য রয়েছে। সেই অবস্থায় নবম–দশম (Nine-Ten Class) শ্রেণিতে পড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীদের যদি একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির (Eleven-Twelve Class) শিক্ষকতার জন্য অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়া হয়, তা নিয়োগ নীতির পরিপন্থী।
আইনজীবীর যুক্তি, বিদ্যমান রুল অনুযায়ী শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পদের কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া যেতে পারে। তাহলে নবম–দশমের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কীভাবে একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির পদের জন্য নম্বর বরাদ্দ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা।
অভিযোগ আরও। বক্তব্য, যাঁরা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, তাঁদের পুনরায় ‘শিক্ষণ দক্ষতা’ যাচাইয়ের জন্য নম্বর নির্ধারণ করা অপমানজনক। তাঁদের দাবি, সরকার বা কমিশন কোনও ভাবেই কর্মরত শিক্ষকদের দক্ষতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারে না। তাই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরাসরি ওই অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া উচিত, নতুন করে কোনও মূল্যায়ন নয়।
মামলাকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন এসএসসি একাধিকবার নীতিমালা বদল করছে। সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ পিটিশনের পর কমিশন কীভাবে যোগ্য শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দেবে, সে নিয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি।
এই মামলার শুনানি হয় সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। মামলার গুরুত্ব বিচার করে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, সব পক্ষ নিজেদের অবস্থান লিখিত আকারে জমা দেবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর।
নিয়োগ সংক্রান্ত এই নতুন বিধিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শিক্ষক সমাজের একাংশের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার নামে কমিশন যেন বারবার নিয়ম পরিবর্তন না করে, কারণ তাতে যোগ্য প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।