
শেষ আপডেট: 18 November 2023 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: মারা গেলেন বুধনি মেঝান। পাঞ্চেতে তাঁর আবাসের নিকটবর্তী শ্মশানে সম্পন্ন হল বুধনির শেষকৃত্য। ‘নেহেরুর বৌ’ হিসেবেই বাংলা-ঝাড়খণ্ড বর্ডারে পরিচিতি ছিল তাঁর। গোটা জীবন সেই পরিচিতির খেসারতও দিতে হয়েছে তাঁকে।
বুধনির কাহিনি জানতে হলে কিন্তু পিছিয়ে যেতে হবে সেই পাঁচের দশকের শেষে। ১৯৫৯ সালে ৬ ডিসেম্বর। ডিভিসির পাঞ্চেত জলাধারের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। আদিবাসীদের হয়ে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুধনি মেঝান। আর তাঁর হাত দিয়েই জওহরলাল নেহেরু পাঞ্চেত ড্যাম উদ্বোধন করিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে আদিবাসীদের তরফ থেকে বুধনি জওহরলাল নেহেরুকে মালা পরিয়েছিলেন। এরপরেই সেই মালাখানি খুলেই বুধনির গলায় পরিয়ে দেন নেহেরু।
ব্যাস, তারপরেই নাকি ঘোর অন্ধকার নেমে আসে বুধনির জীবনে। এই ঘটনার পরে আর তাঁর সমাজ ফিরিয়ে নেয়নি বুধনিকে। তাঁকে ঘিরে তখন সমাজে ছিঃ ছিক্কার। ‘নেহেরুর বৌ’ নামে তাঁকে ডাকতে শুরু করেন আদিবাসী গ্রামের অনেকেই। পরবর্তীতে গ্রাম থেকেও বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। এর দুয়ার ওর দুয়ার ঘুরতে ঘুরতে একসময় হারিয়েই গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গেছে তিন তিনটে দশক। বুধনিকেও ভুলে গেছিল তাঁর গ্রাম, তাঁর সমাজ।
আটের দশকের মাঝামাঝি। দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন রাজীব গান্ধী। তখন আসানসোলের এমপি আনন্দগোপাল মুখোপাধ্যায় এই বুধনি মেঝেনের কথা জানিয়েছিলেন তাঁকে। এরপরে রাজীব গান্ধীর উদ্যোগেই ডিভিসি কর্তৃপক্ষ খুঁজে বার করেন বুধনিকে। ডিভিসিতে চাকরিও দেন। তারপর থেকেই পাঞ্চেতে ডিভিসির আবাসনে থাকতেন বুধনি। যে সমাজ অনেক অপমান আর উপেক্ষায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বুধনিকে, সেখানে আর ফিরে যাননি তিনি। আবাসনে সহকর্মী আর প্রতিবেশীরাই তাঁর কাছে আপনজন হয়ে ওঠেন। গ্রামে ফিরে যেতেও চাননি আর। অবসরের পরেও থাকতেন ডিভিসির আবাসনেই।
শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নামে পাঞ্চেতে। ডিভিসির পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়। মালা দেওয়া হয় তাঁর মরদেহে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও এদিন সম্মান জানানো হয় ‘বুধনিকে।